সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতি বছর দিনটি ঘটা করে পালিত হলেও এর পেছনে রয়েছে রাজপথের আন্দোলন এবং অধিকার আদায়ের এক দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী ইতিহাস। মূলত শ্রমজীবী নারীদের প্রতিবাদ থেকেই এই দিবসের জন্ম।
শ্রমিক আন্দোলন থেকে শুরু
নারী দিবসের বীজ বপন করা হয়েছিল ১৯০৮ সালে।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রায় ১৫ হাজার নারী শ্রমিক তাদের কর্মঘণ্টা কমানো, ন্যায্য মজুরি ও ভোটাধিকারের দাবিতে রাজপথে নামেন। তাদের এই জোরালো আন্দোলনের ফলে ১৯০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো জাতীয় নারী দিবস পালিত হয়।
ক্লারা জেটকিনের সেই প্রস্তাব
১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় নারী শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সেখানে ১৭টি দেশের ১০০ জন নারী প্রতিনিধির সামনে ক্লারা জেটকিন নামে এক নারী নেত্রী আন্তর্জাতিকভাবে নারী দিবস পালনের প্রস্তাব দেন।
উপস্থিত সবাই সর্বসম্মতিক্রমে তার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। এরপর ১৯১১ সাল থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হতে শুরু করে।
কেন ৮ মার্চ তারিখটিই বেছে নেওয়া হলো?
শুরুতে এই দিবসের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ছিল না। তবে ১৯১৭ সালের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ৮ মার্চকে স্থায়িত্ব দেয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার নারীরা ‘রুটি ও শান্তি’র দাবিতে টানা চার দিন ধর্মঘট ও আন্দোলন করেন। এই আন্দোলনের মুখে রাশিয়ার জার শাসনের অবসান ঘটে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নারীদের ভোটাধিকার দিতে বাধ্য হয়।
রাশিয়ায় তখন ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’ ব্যবহার করা হতো, সেই হিসেবে দিনটি ছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ‘গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী দিনটি ছিল ৮ মার্চ। সেই থেকে ৮ মার্চ তারিখটি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিনটিকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা









