জাতীয়

আন্তর্জাতিক নারী দিবস অধিকার ছাড়া দিবস গুরুত্বহীন নারী চা শ্রমিকের কাছে

নিউজ ডেস্ক৮ মার্চ ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

চা মানেই তৃপ্তি। চা ছাড়া আড্ডার কথা ভাবাই যায় না। অনেকের তো ঘুমই ভাঙে চায়ের গন্ধে। কিন্তু পণ্যটির জোগান আসে যে বাগান থেকে, সেখানে কাজ করা শ্রমিকদের অধিকাংশই নারী।

সারা বিশ্বের নারীদের নিয়ে প্রতিবছর ৮ মার্চ পালন করা হয় নারী দিবস। এর মধ্য দিয়ে নারীদের সম্মান জানানো হয়। কিন্তু দিবসটি তাৎপর্য কী- তা জানেন না মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা বাগানে নিয়োজিত নারী শ্রমিকরা। তাদের কাছে দিনটি আলাদা কোনো গুরুত্ব বহন করে না।

কমলগঞ্জের আলীনগর, কানিহাটি ও মাধবপুর চা বাগানের নারী শ্রমিকরা কালের কণ্ঠকে জানান, ২৫ থেকে ৩০ কেজি চা পাতা তুলে তারা একেকজন মজুরি পান ১৭৮ টাকা। বাড়তি চা পাতা তুললে যে পরিমাণ টাকা পাওয়ার কথা, তা-ও পান না বেশিরভাগ সময়। কর্মস্থলে নেই তাদের জন্য শৌচাগার। তাঁরা জানান, নারী দিবসে তাদের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়।

তাঁরা ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানুষের মতো বেঁচে থাকার অধিকার চান।
নারী শ্রমিকরা জানান, তাঁদের কাছে জীবনধারা মানে সপ্তাহে সোমবার থেকে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করা। কেউ সকালে খেয়ে বের হন। সময় না থাকলে বাটিতে খাবার নিয়েই ছুটতে হয়। দুপুরে খাবার বলতে পাতিচখা বা পাতি চাটনি; যা তৈরি হয় চাল ভাজা, চায়ের কুঁড়ি পাতা, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ ইত্যাদি দিয়ে।

তারপর ঘরে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা।
কমলগঞ্জের শমশেরনগর দেওছড়া চা বাগানের নারী শ্রমিক গীতা রবিদাস বলেন, প্রতিবছর নারী দিবসের কথা শুনি। এই দিবসে কী হয় আমরা জানি না। এই দিনে তো আমাদের ছুটিও নেই। কোনো সাহায্য-সহায়তাও পাই না। অনেক দিবস এলেও আমাদের জীবনের বঞ্চনা ও কঠোর পরিশ্রমের গল্প তো আর শেষ হয় না।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপদেষ্টা রামভজন কৈরী বলেন, চা বাগানে অর্ধেক নারী শ্রমিক হলেও নারী হিসেবে কর্মস্থলে যে সুযোগ-সুবিধা থাকার দরকার, তা তারা পাচ্ছেন না। কর্মক্ষেত্রে শৌচাগার নেই, কিন্তু চুক্তিতে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নারী চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার নেই।

তিনি জানান, প্রতিটি চা বাগানে নারী শ্রমিকদের সুখ-দুঃখ, ব্যক্তিগত বিষয়ে আলাপের জন্য একজন নারী কর্মকর্তা থাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সামাজিক ও ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকাণ্ডেও নারী চা শ্রমিকদের কার্যকর অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন।