লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি :
আপনাদের ভালোবাসা ও দোয়াতে আজ আমি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হতে পেরেছি। ২০ বছর পর আবার লালপুরের এই রাস্তায় পতাকাবাহী গাড়ি এসেছে। ওয়াদা অনুযায়ী লালপুর – বাগাতিপাড়ার প্রতিটি ঘরের জীবনমান উন্নয়ন করা আমার ব্রত।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে লালপুরে ফ্যামিলি কার্ডের যাত্রা শুরু হয়েছে। আসন্ন ঈদের আগেই হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে।

প্রতি মাসে তারা ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। এ সময় তিনি দলমত ও দুর্নীতির ঊর্ধে উঠে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাজ করার নির্দেশনা দেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকদের কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে সরকার। অনতিবিলম্বে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হবে। এছাড়া ঈদের আগেই ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও ধর্মীয় গুরুদের সরকারি ভাতা পৌঁছে দিতে সরকার সচেষ্ট আছেন বলে জানান তিনি। নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশে যত উন্নয়ন কর্মকান্ড হবে তার প্রতিটির ছোয়া লালপুর – বাগাতিপাড়ার মাটিতে লাগবে ইনশাআল্লাহ।
ইতোমধ্যে আজিমনগর রেল স্টেশনে আন্তনগর ট্রেন থামার ব্যপারে কথা হয়েছে ঈদের মধ্যেই আজিমনগর রেল স্টেশনে আন্ত নগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি শুরু হবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লালপুরের গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ মাঠে এক বিশাল গণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এসব কথা বলেন।
এ সময় নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসসদ,লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু, গোপালপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ, লালপুর থানার ওসি মজিবর রহমান সহ অসংখ্য দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুলের বাবা মরহুম ফজলুর রহমান পটল নাটোর-১ (লালপুর – বাগাতিপাড়া) আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপি সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী, ১৯৯৩ সালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও ২০০১ সালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হবার গৌরব অর্জন করেন।
পরে ২০০৮ সালে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হলে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ফারজানা শারমীন পুতুল আসনটি পুনরুদ্ধার করেন এবং আসনটির সর্বকনিষ্ঠ এমপি ও প্রতিমন্ত্রী হয়ে অনন্য ইতিহাস গড়েন। বাবার পর মেয়ের এমন গগনচুম্বী সফলতায় আনন্দে উদ্বেলিত লালপুর বাগাতিপাড়ার সর্বস্তরের মানুষ।









