সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের কথায় মনে হয়েছে, খুবই আনন্দ নিয়ে ছবিটা দেখেছেন। প্রতিটা চরিত্রকে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, সেগুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছেন আমাদের।

উৎসবে ‘মাস্টার’-এর সবগুলো প্রদর্শনী হাউসফুল ছিল। প্রদর্শনীতে দর্শকের প্রতিক্রিয়া থেকে আন্দাজ করতে পেরেছিলেন, ছবিটি পুরস্কার জিতবে?
অন্তত আমার মনে এরকম আশা কাজ করেনি।
হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এবারই প্রথম। তবে নাচ নিয়ে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করার সুযোগ আগেও হয়েছিল।
চলচ্চিত্র উৎসবে অনেক দেশ-সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে। নতুন কিছু জানা ও শেখা যায়। আপনি কী জানলেন?
মনে হয়েছে, আমরা চলচ্চিত্রকে অনেক জটিল করে ফেলি।
উৎসবের ভেন্যু ছাড়া আর কোথায় ঘুরলেন?
ওখানকার বাস্তবতা আমাদের জন্য আলাদা। আমাদের চেয়ে একদম বিপরীত আবহাওয়া ওখানে। তা ছাড়া ঘোরার সময়ও তেমন ছিল না। আমরা উৎসবের বিভিন্ন ইভেন্ট নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। তবু তাড়াহুড়ার মধ্যে টিমের সবাই মিলে ট্রেনে করে বেলজিয়াম গিয়েছিলাম, ব্রাসেলসে একটা দিন ঘুরেছি, খেয়েছি। তারপর আবার সন্ধ্যার ট্রেনে রটারড্যাম ফিরেছিলাম।
বাংলাদেশের আরো দুটি ছবি [রইদ ও দেলুপি] এই উৎসবে ছিল। দেখেছেন ছবিগুলো?
হ্যাঁ দেখেছি। বাংলাদেশের তিনটা ছবি একসঙ্গে একটা উৎসবে অংশ নিয়েছে, এটা নিয়ে বেশ আনন্দিত ছিলাম। আমাদের ছবির প্রদর্শনী হচ্ছে, মানুষ এসে দেখছে, আমরাও দেখছি, এসব অভিজ্ঞতা দারুণ।
আপনার আর আজমেরী হক বাঁধনের ক্যারিয়ার একই সময়ে শুরু। অথচ ‘মাস্টার’ দিয়ে প্রথমবার একসঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেন…
আমরা তো আমরা প্ল্যান করি না, প্ল্যানের অংশ হই। অর্থাৎ নির্মাতাদের ব্যাপার এটা। আর আমাদের কাজ করার অভিজ্ঞতা বরাবরই খুব বন্ধুত্বপূর্ণ, সৌজন্যপূর্ণ এবং আন্তরিকতাপূর্ণ। যার যার ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন একদমই আলাদা। তবে ২০ বছর পরও যখন একসঙ্গে কাজ করছি, সেই একই আন্তরিকতা আছে।
মাঝে অনেক দিন ফেসবুক থেকে উধাও ছিলেন, মোবাইল নম্বরটিও রেখেছেন বন্ধ। হঠাৎ এই ডুব দেওয়া কেন?
মানুষের জীবনে বিরতির প্রয়োজন হয়। থামতে জানতে পারলে ভালো, আমিও চেষ্টা করেছি।
প্রযুক্তির এ যুগে সোশ্যাল মিডিয়া ছেড়ে থাকা কঠিন। আপনার সময়টা কেমন কাটল?
ওই সময়টা বরং বেটার কেটেছে। ধরুন সারাদিনে অন্তত দুই ঘণ্টা ফেসবুক স্ক্রল করতাম, ওটা বন্ধ করে আমি সময়টা নিজেকে দিয়েছি। পড়ালেখা করা, ছবি দেখা, নিজেকে ও পরিবারকে সময় দেওয়া—এসব সোশ্যাল মিডিয়ার চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়া ছেড়ে এভাবে থাকা সম্ভব। হ্যাঁ, প্রত্যেকটা মানুষই আলাদা, যে যার মতো করে জীবন পরিচালনা করবেন। কিন্তু সবার জীবন যেন মেটানির্ভর হয়ে গেছে। অবশ্য কিছু করারও নেই। এটা ওয়ার্ল্ড পলিটিকসের অংশ। আমি আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিরেছি কেবল কাজের প্রয়োজনে। ‘মাস্টার’-এর খবরাখবর জানাতে। এমনিতেও আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত কিছু শেয়ার করি না। শুধু দর্শককে কাজের তথ্য জানানোই মুখ্য।
ঈদে তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ দেখা যাবে আপনাকে। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস থেকে ছবিটি হয়েছে। বই থেকে তা কতখানি আলাদা হবে?
চলচ্চিত্র কমপ্লিটলি আলাদা বিষয়। বই পড়ে পাঠকের মনে অনেক কিছু তৈরি হতেই পারে, এটা পাঠকের স্বাধীনতা। কিন্তু গল্প বা উপন্যাস যখন চলচ্চিত্র হয়ে আসে, তখন ব্যাপারটা অনেক বেশি নির্মাতার হয়ে ওঠে। নির্মাতা তার মতো করে অলংকৃত করেন, যেটা দর্শকের জন্য আরো উপভোগ্য হয়ে ওঠে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দর্শক এ ছবিটা খুবই পছন্দ করবে।
দীপ্ত টিভিতে একটি রান্নার অনুষ্ঠান করছেন…
হ্যাঁ। ভাবলাম লম্বা সময় ধরে ফিকশন করছি, নন-ফিকশন কিছু করলে মন্দ হয় না। আর রোজায় ইফতার খুবই জরুরি একটা ব্যাপার। আবার রান্নাঘর হলো খুব আন্তরিক জায়গা। এসব কিছু ভেবেই অনুষ্ঠানটি করছি।
গল্পের প্রয়োজনে এক চরিত্র থেকে আরেক চরিত্রে রূপ নিতে হয়, মাঝখানে আবার ব্যক্তি মম। এমন কি কখনো হয়, গল্পের চরিত্র হয়েই বাসায় চলে এসেছেন?
না। আমার মনে হয় এটা উচিতও না। প্রফেশনাল এবং পার্সোনাল লাইফ দুইটা আলাদা রাখা খুব প্রয়োজন। সারাক্ষণ প্রফেশনের কথা মাথায় নিয়ে থাকলে নিজেকেই আর খুঁজে পাব না! নিজের উন্নতি সাধনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলব। ধরেন আমি ক্লাস টুতে পড়ি, তাহলে সারা জীবন টু-তেই পড়ে থাকব। ফাইভে আর ওঠা হবে না। এ জন্য গল্পের চরিত্রকে বাসায় নিয়ে আসি না। ধরুন আমি ‘ক’ চরিত্রে অভিনয় করে সেটা হিসেবেই বাসায় ফিরলাম, তাহলে আমি তো আর আমি হলাম না! আমিও মানুষ, আমারও বিশটা অনুভূতি আছে। এমনও হয়, কোনো দিন আমার মেজাজমর্জি যেমন, তার ঠিক বিপরীত একটা চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। এই মানসিক জার্নিটা করতে হয়। লম্বা সময় ধরে এটা করতে পারছি, সে জন্য ইন্ডাস্ট্রি এবং দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি।
ঈদের জন্য আর কিছু করছেন?
নতুন একটি নাটক করেছি, সালাহউদ্দিন লাভলু ভাইয়ের নির্মাণে। তাঁর সঙ্গে আমার দারুণ দারুণ কিছু কাজ হয়েছে। মানুষ এখন অনেক ভার্চুয়াল, অ্যাকচুয়াল নয়। এ নাটকে আমার চরিত্রটা অ্যাকচুয়াল। মানে সে সব সময় সত্য কথা বলে। এ কারণে মানুষ তাকে ভুল বোঝে, তার বিয়েও ভেঙে যায়। কিন্তু একটা সময় ঠিকই তার বিয়ে হয়। অর্থাৎ সত্যটাকে গ্রহণ করাই সৌন্দর্য। এটাই সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন লাভলু ভাই। এখন তো সবাই ভিউ নিয়ে মনোযোগী। আগে কোয়ালিটি নিয়ে সবার চিন্তা ছিল। প্রত্যেক পরিচালক ভাবতেন, কোয়ালিটিতে কিভাবে এগিয়ে থাকা যায়। মানলাম বাজেট কম, লজিস্টিক কম, তার পরও সাধ্যের মধ্যে চেষ্টাটুকু করার প্রবণতা ছিল। এ নাটকটি তেমনই এক প্রচেষ্টা বলতে পারেন।
শিল্প এমন ভিউসর্বস্ব হয়ে ওঠার কারণ কী?
আসলে আমরা একটা বৈশ্বিক পরিবর্তনের মাঝে আছি। এ পরিবর্তনের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই। আমরা কেবল এডাপ্ট করছি। সেটারই ফল পেতে শুরু করেছি। শুধু ব্যক্তিজীবন না, একেবারে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও এসবের প্রভাব দেখলে অবাক হতে হয়। এতে আমাদের চিন্তা ভাবনার ধার কমে যাচ্ছে। আমরা নিজেদেরকে সময় দিচ্ছি না, পরিবার থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, জীবনের সৌন্দর্যটা মিস করে ফেলছি। অথচ একটাই জীবন, এটা আর ফিরে পাব না। সুতরাং এ জীবনে মানবিক হওয়া, পরিবারের কাছাকাছি থাকা ভেরি ইম্পরট্যান্ট। দেখুন, আমি প্রযুক্তির বিপক্ষে নই। কিন্তু প্রযুক্তিটাকে কে কিভাবে ব্যবহার করছি, সেটা ভাবা জরুরি।









