নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সামনে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ করতে কয়েকশ নারী-পুরুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন ভোর থেকেই। এদের অধিকাংশই হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের স্বজন, যারা জরুরি ভিত্তিতে রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসা শুরু করার অপেক্ষায় রয়েছেন।
গতকাল বুধবার সকাল ৮ টার দিকে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, দুটি প্যাথলজির সামনে অন্তত ৫০০ রোগীর স্বজন লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ বসার জায়গা না পেয়ে করিডোরে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ আবার ক্লান্ত হয়ে মেঝেতে বসে পড়েছেন। অনেকের মুখে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার ছাপ স্পষ্ট। তাদের রোগীরা কেউ মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে বেডে শুয়ে আছেন, আবার কেউ ব্যথায় কাতরাচ্ছেন চিকিৎসা শুরুর অপেক্ষায়।
রিফাত হোসেন নামের এক ম্বজন জানান, তার চাচাকে মঙ্গলবার রাতে হার্টের সমস্যার জন্য হাসপাতালের ৩২ সম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। তার পর শারীরিক কয়েকটি পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে প্যাথলজিতে দেয়া হয় রাতেই। রক্ত জমা দেওয়ার পরে প্যাথলজি ,থেকে জানানো হয় সকাল আটটার মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করা বহিঃর্বিভাগের সামনে কাউন্টার থেকে। সে অনুযায়ী সকাল আটটার দিকে তিনি কাউন্টার সামনে যান। কিন্তু গিয়ে দেখেন তার আগেই অন্তত ৩০০ লোক দাঁড়িয়ে আছেন কাউন্টারের সামনে রিপোর্ট নেয়ার জন্য। রিফাত জানান, শেষ পর্যন্ত তিনি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কাউন্টারের কাছে গিয়ে পৌঁছান। এরপর কাউন্টার থেকে জানানো হয়, তার রিপোর্ট দুপুর একটার সময় দেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত রিফাত দুপুর দুই টার দিকে ওই রিপোর্ট হাতে পান। ততক্ষণে হাসপাতালের জেষ্ঠ্য চিকিৎসকরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। রিফাত অভিযোগ করে বলেন সকাল আটটার দিকে ওই রিপোর্ট যদি হাতে পেতাম তাহলে আমার চাচার চিকিৎসা হযতো সঠিকভাবে করানো যেত। কিন্তু রিপোর্ট সময়মত হাতে না পাওয়া আরো একদিন অপেক্ষা করতে হবে।
আরেক স্বজন নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমি আগেই জানতাম রিপোর্ট নিতে ভোগান্তি হয় তাই সেহরি খেয়ে এসেই লাইনে দাঁড়িয়ে গেছিলাম। তাও এসে দেখে আমার সামনে আরো অন্তত ৩০ জন রোগীর স্বজন দাঁড়িয়ে আছেন রিপোর্ট পেতে। শেষ পর্যন্ত সকাল আটটার দিকে কাউন্টার খোলার পরে পৌনে নয়টার দিকে আমি রিপোর্ট হাতে পাই।
রোগীর আরেক স্বজন আঞ্জুয়ারার অভিযোগ, রিপোর্টের জন্য নির্ধারিত ফি নেওয়া হলেও সময়মতো রিপোর্ট সরবরাহ করা হচ্ছে না। কখনো সকালে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলা হলেও তা হাতে পেতে বিকেল হয়ে যাচ্ছে। এতে করে ওইদিন আর রোগীর চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চিকিৎসা বিলম্বিত হয়ে রোগীর অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠছে।
হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন জহুরুল ইসলাম বলেন, “সকাল ৮টায় রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। এসে দেখি লাইনে অন্তত ৪০০ মানুষ। আগের দিন সকালে স্যাম্পুল দিতে এসেও ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করতে হয়েছে। এভাবেই শুধু রিপোর্টের জন্যই একের পর এক হয়রানির শিকার হচ্ছি। তাহলে চিকিৎসা কিভাবে হচ্ছে এটা ভাবুন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দুটি প্যাথলজি বিভাগে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইহাজার রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। আর প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় রিপোর্ট প্রস্তুত ও সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে। একই সঙ্গে নমুনা সংগ্রহ ও জমা দিতেও রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল মুখপাত্র চিকিৎসক সঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে জনবল বাড়েনি। ফলে রিপোর্টের জন্য বিলম্ব হচ্ছে। ভোগান্তিও হচ্ছে। তবে দ্রুত রিপোর্ট সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা অনলাইনে নিবন্ধনের কথা ভাবছি। যাতে অনলাইনেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে নিতে পারেন রোগীর স্বজনরা। এতে ভোগান্তি কিছুটা হলেও কম হবে।









