রাজশাহী

বিএনপির দূর্গ রাজশাহীতে জামায়াতের লক্ষ্য নারী ভোটার

নিউজ ডেস্ক২২ জানুয়ারি ২০২৬৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহীকে বলা হয় বিএনপির দুর্গ। এবরাও ভোটের হিসেবে বিএনপির প্রার্থীরাই এগিয়ে আছে। তবে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে আছে জামায়াতের প্রার্থীরা। রাজশাহীর ৬টি আসনের মধ্যে একটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীও আছেন। তাঁরাও বড় ধরনের সমস্যা তৈরী করবেন দলের প্রার্থীর ক্ষেত্রে।

সে ক্ষেত্রে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে থাকা জামায়াত অনেকটায় সুবিধা আদায় করবে সেখানে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে বিএনপির এখনো ভরসা হয়ে আছে তৃণমূলের সমর্থন। আর জামায়াতের লক্ষ্য নারী ভোটার। নারীদের টার্গেট করে প্রতিদিনই জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গেছেন ভোট চাইতে।

এতোদিন প্রচারণা বন্ধ থাকলেও জামায়াতের নারী কর্মী-সমর্থকরা ঠিকই নানা কৌশলে চালিয়েছেন প্রচারণা। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়েছেনে প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শোকসভার আড়ালে নানা কৌশলে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র মতে, সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি আসনের সবকটিতে জয় পান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বধীন ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। যদিও ওই নির্বাচনেও কারচুপির অভিযোগ ছিল।

এর আগে ২০০১ ও ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের অষ্টম ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর পাঁচটি আসনের সবকটিতেই জয় পান বিএনপি’র প্রার্থীরা।
এর আগে ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর পাঁচটি আসনের তিনটিতে বিএনপি, একটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী জয়ী হোন।

সেই হিসেবে রাজশাহীর ৬টি আসনে এবারও বিএনপির মূল চালিকাশক্তি হলো তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা। সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যা”েছন দলের প্রার্থীরা।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, নির্বাচনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে জামায়াতের নারী কর্মী-সমর্থকরা জেলার ৬টি আসনের সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নানাভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন। এছাড়াও নির্বাচনের আরও প্রায় তিন মাস আগেই ৬টি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত। যদিও শেষদিকে এসে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করে দলটি।

সেদিক থেকে ৫টি আসনেই পিছিয়ে পড়ে বিএনপির প্রার্থীরা। শেষ পর্যন্ত তফশিল ঘোষণার পরে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হলেও দুটি আসনে বিদ্রোহীরা জোর প্রচারণা চালাতে থাকেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত এখনো রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী থেকে গেছেন। আর শেষ মুহূর্তে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসন থেকে একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী সুলতানুল ইসলাম তারেক তাঁর প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন।

এমন  অবস্থায় বিএনপির ভরসা হয়ে আছে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সেই লক্ষ্য নিয়ে মাঠ গুছাতে প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শোকসভাকে ঘিরে ব্যাপক প্রচারণা চালান বিএনপির প্রার্থীরা। এতে অনেকটা সঙ্কট কেটে গেছে বলেও মনে করছেন কর্মী-সমর্থকরা।
গোদাগাড়ীর পৌর বাসিন্দা ও জামায়াত সমর্থক আজম আলী বলেন, ‘আমাদের (জামায়তের) কর্মী-সমর্থকরা সবাই উদ্গ্রিব হয়ে আছেন ভোটের জন্য। দলের একমাত্র প্রার্থীর পক্ষে শুরু থেকেই সবাই কাজ করেছেন। কেউ বসে নাই। বিশেষ করে নারী কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন কায়দায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। তাতে করে নারী ভোটারদের মাঝে আমাদের প্রার্থীর প্রচারণা বেশি ছড়িয়ে গেছে।

আবার আমরাও নানাভাবে প্রচারণা চালিয়েছি হাটে-ঘাটে, মোড়ের চায়ের স্টলে বিভিন্ন দোকানপাটের ব্যবসায়ীদের মাঝেও। সেই হিসেবে প্রচরণায় আমরা এগিয়ে আছি।’
একই অবস্থতা ছিলো জেলার অন্যান্য আসনগুলোতে-এমন দাবি করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক এমাজ উদ্দিন ম-ল। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নাই। আমরা সবাই দলের প্রার্থীর হয়ে কাজ করছি। নারীদের মাঝে আমরা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি। কারণ নারী ভোটারই বেশি। কাজেই আমরাই এগিয়ে আছি।’
অন্যদিকে, তানোরের আমশো গ্রামের বিএনপি সমর্থক আলী হোসেন বলেন, ‘এখন প্রার্থী একক হওয়ায় সবাই একজনের পক্ষে কাজ করতে পারবেন। আমাদের এলাকায় তৃণমূলে বিএনপির ভোট বেশি আছে। বেগম জিয়ার শোকসভাকেন্দ্রীক বেশকিছু সভা-সমাবেশ করতে পেরেছি আমরা।সেসব অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন সবাই মাঠে একযোগে নেমে কাজ করতে পারব। সবদিক থেকে আমরা এগিয়ে আছি।’
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ বলেন, ‘রাজশাহী বরাবরই তৃণমূলে বিএনপির নেতাকর্মীদের অবস্থান শক্তিশালী। এবার নির্বাচনেও সেটিই আমাদের ভরসা। তার পরেও আমরা বসে নাই। দলের প্রার্থীর পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করছেন। সেই হিসেবে আমরাই এগিয়ে আছি।’