সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
অটিজম, বিহেভ্যারিয়াল ডিজঅর্ডার, এডিএইচডি-র সমস্যায় থাকা শিশুদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অথচ কেন এমন সমস্যা নিয়ে এই শিশুরা জন্মাচ্ছে, কোন মায়েদের এমন সন্তানের জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি, তার উত্তর এখনো নেই।
এ নিয়ে নানারকম আলোচনা হয়। বিভিন্ন গবেষণা নানারকম দাবিও করে, যার বেশিরভাগেরই বিজ্ঞানসম্মত যুক্তি নেই! ল্যানসেট, অবস্টেট্রিকস, গাইনোকলজি—এ নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে।

সম্প্রতি এই ধরনের ধারণা ছড়িয়ে পড়েছিল যে, গর্ভাবস্থায় মায়েরা প্যারাসিটামল বেশি খেলে নাকি সন্তানের অটিজমের ঝুঁকি বাড়ে। আমেরিকার আইকাহন স্কুল অব মেডিসিন অ্যাট মাউন্ট সিনাই-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা একটি সমীক্ষার পর এমন দাবি করেন।
গবেষকদের দাবি, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবন ও শিশুদের নিউরোডেভেলপমেন্টাল ঝুঁকির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক আছে। এই ধারণায় সায় ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও।
তবে ল্যানসেট অবস্টেট্রিকস- এর গবেষণা সেই আশঙ্কাকে একেবারে নস্যাৎ করেছে।
অটিজম কী
অটিজম নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার মস্তিষ্কের বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অবস্থা। এই অবস্থায় থাকা শিশুদের সামাজিক মেলামেশায় সমস্যা দেখা যায়।
সমাজ ও অন্য মানুষের সঙ্গে সংযোগে অনীহা দেখা যায়। এই অবস্থা যোগাযোগ এবং সামাজিকভাবে অন্যদের সঙ্গে মিশতে সমস্যা সৃষ্টি করে। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে ‘স্পেকট্রাম’ শব্দটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ এর লক্ষণগুলো আলাদা আলাদা, এর ব্যাপ্তি বিশাল, কারো সঙ্গে হয়ত কারো মেলে না।
এডিএইচডি কী
এডিএইচডি-এর লক্ষণগুলো শৈশব থেকেই দেখা দিতে শুরু করে এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্তও চলতে পারে।
মনোযোগ ঘাটতি হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার হলো একটি স্নায়বিক বিকাশজনিত অবস্থা। এডিএইচডি-র কোনো প্রতিকার নেই। ওষুধ ও আচরণগত থেরাপি এই রোগের লক্ষণগুলো ম্যানেজ করতে সাহায্য করতে পারে।
কাদের ওপর গবেষণা
গবেষকরা দেখেছেন, গর্ভাবস্থায় মা প্যারাসিটামল খেলে, অটিজম, এডিএইচডি বা বুদ্ধির বিকাশে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। এই স্টাডিতে ২ লাখ ৬২ হাজার জনেরও বেশি শিশুকে অটিজমের জন্য মূল্যায়ন করা হয়েছিল। ৩ লাখ ৩৫ হাজার জনেরও বেশি শিশুকে এডিএইচডি-এর জন্য মূল্যায়ন করা হয়। প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার জনকে বুদ্ধির বিকাশের সমস্যার জন্য মূল্যায়ন করা হয়। তারপরই এই সিদ্ধান্তে আসেন গবেষকরা।
সূত্র : এবিপি লাইভ









