সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
শুরুতেই অভিনন্দন আপনাকে…
ধন্যবাদ।

পুরস্কারপ্রাপ্তির খবরটা কার কাছ থেকে পেলেন? শুনে কেমন লাগছে?
বাংলা একাডেমির একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর খবরটা জানিয়েছেন। শুনে তো আনন্দ লেগেছে। তবে পুরস্কারের জন্য তো আসলে কাজ করি না।
নাটক, অভিনয়—এসবই আমার ভালো লাগা, ভালোবাসা। এটা সত্য, যেকোনো পুরস্কার বা স্বীকৃতি মানুষকে উৎসাহ জোগায়। আমি তো আসলে থিয়েটারের মানুষ। আর এই থিয়েটারের অন্যতম পথিকৃৎ মমতাজউদদীন আহমদের নাম জড়িয়ে আছে পুরস্কারটির সঙ্গে।
এ জন্য আরো বেশি আবেগতাড়িত হচ্ছি। আরেকটা ভালো লাগার বিষয় হলো, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে পুরস্কারটি পাচ্ছি। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরে ছিলাম আমি। ক্যাম্পে ক্যাম্পে গিয়ে নাটক করেছি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেছি।
ফলে বিজয়ের মাসে এই প্রাপ্তি ভীষণভাবে নাড়া দিচ্ছে।
পুরস্কার বা স্বীকৃতি একজন শিল্পীর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ? শিল্পীর কাজে কি এর প্রভাব পড়ে?
ওই যে বললাম, পুরস্কার পেলে একটা বাড়তি অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়, এটুকুই। মনে হয়, শ্রমটা বৃথা যায়নি। তবে পুরস্কার না পেলেও আমার দুঃখ থাকত না। আমার কাছে মানুষের ভালোবাসাই বড় প্রাপ্তি।
এই দীর্ঘ পথচলায় কত মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলাম। আমার দল নাট্যকেন্দ্রের সদস্যরা আমাকে বিশ্বাস করেছেন, আমার ওপর আস্থা রেখে কাজ করে চলেছেন; এ প্রাপ্তি তাঁদেরও।
আপনি বীর মুক্তিযোদ্ধা। এবারের বিজয় দিবস কিভাবে কাটিয়েছেন?
বাসায়ই ছিলাম। এখন কাজ না থাকলে বের হই না। থিয়েটারের কাজ তো কমে গেছে। তবে হ্যাঁ, কিছু ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছি। দেখা যাক, কতটুকু কী করতে পারি। বয়সও তো একটা ফ্যাক্ট, সেটাও মেনে নিতে হচ্ছে। তবে বিজয় দিবস বরাবরই আমার স্মরণে থাকে। সাতক্ষীরায় আমার বন্ধু খোকন, কাজলরা শহীদ হয়েছে; ওদের চেহারা এখনো চোখে ভাসে। এই ডিসেম্বরেই সাতক্ষীরায় একটি নাটক করেছিলাম আমরা। সেখানে মানুষের ঢল নেমেছিল। সেসব স্মৃতি এখনো মনে পড়ে।
অভিনয় প্রসঙ্গে আসি। নতুন কী করছেন?
সাকিব ফাহাদের ‘সোলজার’ করছি। শুটিং প্রায় শেষ; কেবল এক দিনের বাকি। এটা কেন আটকে আছে, তা পরিচালক ভালো জানে। এ ছাড়া রায়হান খানের ‘ট্রাইব্যুনাল’-এ অভিনয় করছি। এ মাসেই ছবিটির বাকি শুটিং হবে। মাঝে আরো দুটি ছবির ব্যাপারে কথা হয়েছিল, কিন্তু সব মিলিয়ে পছন্দ হয়নি, তাই করিনি।
যত দূর জানি, ‘সোলজার’-এর গল্প দেশাত্মবোধ নিয়ে। এ ধরনের গল্পে এখন আর ছবি হয় না বললেই চলে। এর কারণ কী?
এটা সত্য। আমাদের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতার জ্বলজ্বলে ইতিহাস আছে। চলচ্চিত্রে সেটার প্রতিফলন সেভাবে হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পৃথিবীতে বিরল; এই স্বাধীনতা এসেছে ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য। ভাষা আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ভাষার জন্য জীবন দেওয়া জাতি পৃথিবীতে বিরল। সে হিসেবে ভাষা, দেশ, স্বাধীনতা—এসব নিয়ে অনেক ছবি হওয়ার কথা ছিল। হয়তো প্রত্যাশামাফিক পরিবেশ-পরিস্থিতি পায়নি চলচ্চিত্রের মানুষ। মঞ্চনাটকে অবশ্য মুক্তিযুদ্ধ ও দেশাত্মবোধ নিয়ে নিয়মিত চর্চা হয়েছে। এর পেছনেও সবচেয়ে বড় ভূমিকা স্বাধীনতার। আমাদের নাটকের ইতিহাস তো বহু পুরনো। কিন্তু পুরোদমে, নিয়মিতভাবে থিয়েটার চর্চা হচ্ছে স্বাধীনতার সময় থেকে। তবে চলচ্চিত্রে অপূর্ণতাটা রয়ে গেছে।
আগে তো বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস—এসব ঘিরে বিশেষ নাটক নির্মিত হতো। ইদানীং সেটাও শূন্যের কোঠায়…
এটা খুব দুঃখজনক। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এমনটা হচ্ছে কি না, জানি না। দেখুন, স্বাধীনতাযুদ্ধে আমাদের স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা’। কোথাও মুক্তিযোদ্ধাদের পাকিস্তানিরা ঘেরাও করে ফেলল, তখন মুক্তিযোদ্ধারা সমস্বরে চিৎকার করে বলে উঠতেন ‘জয় বাংলা’। এখন অনেকে বলবে, এটা একটি নির্দিষ্ট দলের স্লোগান। তো সবকিছু মিলিয়ে একটা দ্বিধা-সংশয়ের মধ্যে রয়েছি আমরা। ইতিহাসকেও ভুলভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে কেউ কেউ।
আপনারা যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, এসব দেখা নিশ্চয়ই বেদনার?
অবশ্যই আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। কত মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা আজকের জায়গায় এসেছি। কোনো পক্ষপাত না করেই বলছি, আমাদের মূল জায়গা মুক্তিযুদ্ধ; সেটাকে ভুলে গেলে চলবে না।









