ছবিঘর

সৌমিত্রের বায়োপিক হলে থাকবেন পরমব্রত!

নিউজ ডেস্ক১৫ নভেম্বর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শেষ ছবি ‘বেলাশুরু’ বাঙালির হৃদয়ে আজও আলাদা মর্যাদা পায়। কারণ, সৌমিত্রর প্রয়াণের পর সেই ছবিই তাকে শেষবারের মতো রুপালি পর্দায় ফিরিয়ে এনেছিল—স্বপ্নের নায়ককে শেষবার দেখার সৌভাগ্য মিলেছিল দর্শকের। সৌমিত্রর চলে যাওয়ার পাঁচ বছর পরে, সেই স্মৃতিগুলো আরো তীব্র হয়ে ফিরে আসে গল্পকার জিনিয়া সেনের মনে—যিনি উইন্ডোজ প্রোডাকশনের অন্যতম সদস্য এবং যার সৃষ্টিশীল যাত্রার বড় অধ্যায়জুড়ে রয়েছেন এই মহাতারকা।

জিনিয়া বলেন, ‘আমার লেখা কোনো গল্পে সৌমিত্রদা কাজ করেননি—এই আফসোসটা সর্বদা থেকেই যাবে।

তবে উইন্ডোজের একাধিক প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে তাকে খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্যও পেয়েছি।’
উইন্ডোজ প্রোডাকশনের সঙ্গে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের যাত্রা শুরু ২০১৫ সালে। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায় পরিচালিত ‘বেলাশেষে’-র হাত ধরে। এরপর ‘পোস্ত’, ‘বেলাশুরু’-র মতো ছবি উপহার দেয় দল।

সেইসব কাজের সূত্রেই প্রয়াত অভিনেতার সঙ্গে এক বিশেষ সমীকরণ গড়ে উঠেছিল জিনিয়ার।

সৌমিত্র চট্টোপাধায়কে কেন্দ্র করে কোনও জীবনীচিত্র নির্মাণের ভাবনা আছে কি? আর থাকলে, পর্দায় তাঁকে ফুটিয়ে তুলতে কাকে বেছে নেবেন—এ প্রশ্নের উত্তরে জিনিয়া বলেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কাজের বিশাল ব্যপ্তি ও বহুমাত্রিক জীবনকে পর্দায় ধারণ করা সত্যিই দুষ্কর। তার জীবন, সুদর্শন চেহারা, মূল্যবোধ, অভিনয়ের নান্দনিকতা, বাচনভঙ্গি—কোনোটিই অনুকরণ বা পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তাই তাঁর জীবনকে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়া যেমন কঠিন, তেমনই পর্দায় তাঁর সমতুল্য কাউকে কল্পনা করাও প্রায় অসম্ভব।

তাঁর কথায়, ‘তবু যদি ভাবতে হয়, সৌমিত্রদার চরিত্রে পরমব্রতকে (চট্টোপাধ্যায়) ভাবতে পারি। কারণ ওদের চেহারায় কিছুর সাদৃশ্য আছে। পরমব্রতর চেহারাও সৌমিত্রদার মতো সৌষ্ঠব। ও সৌমিত্রদার মতো খুব ভালো বাংলা আর ইংরেজি বলতে পারে। তাই এই মুহূর্তে ওর কথাই মাথায় এলো।

জিনিয়ার কাছে সৌমিত্র শুধু নায়কই নন, তিনি অনুভূতির গভীরে ‘অপু’ হিসেবে রয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজা লিয়ার দেখে আমি শিবপ্রসাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ওর চোখে ঈশ্বর কেমন দেখায়। তখন উনি আমাকে একই প্রশ্ন করেছিলেন। আমি উত্তর দিয়েছিলাম, ‘রাজা লিয়ার’-এর সৌমিত্রদার মতো।