নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীসহ চার জেলার চরে পুলিশ, র্যার, নৌবাহিনী, এপিবিএন মিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২শ সদস্য একযোগে সাড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। অপারেশ ‘ফার্স্ট লাইট’ নামের এ অভিযানে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ মোট ৫৮জনকে এবং কুষ্টিয়া পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সবমিলিয়ে ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার বিকেলে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কাঁকন বাহিনীকে ধরতে রাজশাহী, কুষ্টিয়া, পাবনা ও নাটোর জেলার দুর্গম বিস্তীর্ণ পদ্মার চরে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এসময় মোট ৫৮ জনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। পুলিশ এ অভিযানের নাম দিয়েছে অপারেশন ফার্স্ট লাইট। রবিবার ভোররাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। এতে পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী ও এপিবিএন’র ১২শ সদস্য অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক চোরাকারবারি, খুন, অস্ত্রের মহড়া, বালু উত্তোলন ও বিক্রি, গুলাগুলির আতঙ্কে ভীত সন্ত্রস্ত চরবাসীর নিরাপত্তাহীনতায় ভূছিলেন। ওই চরে রোকনুজ্জামান কাঁকন ইঞ্জিনিয়ার কাঁকন হিসেবে পরিচিত। তার বাহিনীর নির্মমতায় চরাঞ্চল বাসীর উদ্বেগ, উৎকন্ঠা বিরাজ করছিল। কাঁকন বাহিনীসহ পদ্মার চরের অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোর অন্যতম মন্ডল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী, শরীফ কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী, চল্লিশ বাহিনী, বাহান্ন বাহিনী, সুখচাঁদ ও নাহারুল বাহিনীসহ মোট ১১টি বাহিনী গড়ে উঠেছিল। এসব বাহিনীর পারস্পরিক দ্বন্দ্বের ফলে খুন, চরের চাষী ও জেলেদের হত্যা, চরের জমি দখল, খড় দখল, গরু-মহিষের বাথানের রাখাল ও মালিকদের নিকট থেকে চাঁদা আদায়, মাদক ও অস্ত্র পাচার, বেআইনী অস্ত্র দখলে রাখা, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ও সর্বহারাদের আশ্রয়-প্রদান এবং ডাকাতি করে আসছিল।
এ অভিযানের মাধ্যমে তাদের হাত থেকে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা জেলার বিস্তির্ন পদ্মার চরের অধিবাসীদেরকে রক্ষা করা ও নিরাপত্তা প্রদান ও নিরাপদ চরাঞ্চল গড়ে তোলা করার উদ্দেশ্যে অপারেশন ‘ফার্স্ট লাইট’ পরিচালনা করা হয়।
এছাড়াও রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা এবং এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে চোরাচালান, মাদক পাচার, অস্ত্র, বালুমহাল নিয়ে বিরোধ এবং চুরি ডাকাতির মত অপরাধ থেকে পরিত্রানের চেষ্টা করা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অপরাধীদেরকে গ্রেপ্তার করাও ছিল এ অভিযানের মূল লক্ষ্য।
এ অভিযানে ৫৮জনকে আটকসহ ১০টি অগ্নয়াস্ত্র, ৪টি গুলি, ২৪টি হাসুয়া, দুটি স্পিডবোড, ৫টি মোরসাইকেল, ২০ বোতল ফেনসিডিল, ৪টি চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও ৯জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স.আর









