ধর্ম

গাজার যুদ্ধাহত শিশুদের জার্মানিতে চিকিৎসা দেওয়ার আহবান

নিউজ ডেস্ক৩ নভেম্বর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

জার্মানির একটি প্রধান মুসলিম সংগঠন সরকারকে আহবান জানিয়েছে, তারা যেন গাজার আহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিশুদের জার্মানিতে এনে চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দেয়। গত শুক্রবার এই আহবান জানানো হয়। কোলোনভিত্তিক মুসলিম কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের মুখপাত্র আলি মেটে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জার্মানিতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এসব শিশুকে চিকিৎসাসেবা ও সুরক্ষা প্রদান করা একটি নৈতিক দায়িত্ব। জার্মানির উচিত এই শিশুদের এই দেশে এনে চিকিৎসা সহায়তা ও সুরক্ষা দেওয়া।

এর কম কিছু করা আমাদের মানবতা ও সহমর্মিতার ধারণার পরিপন্থী।’
আলি মেটে আরো বলেন, গাজার শিশুরা অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছে। অনেকে ইসরায়েলি হামলায় মারাত্মকভাবে আহত, অনেকের বাবা-মা, ভাইবোন ও বন্ধুরা নিহত হয়েছে আর তারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছে। এই শিশুরা শুধু শারীরিকভাবে আহত নয়, তারা গভীরভাবে মানসিক আঘাতপ্রাপ্তও।

আলি মেটে জানান, জার্মানির বেশ কয়েকটি শহর ও নাগরিক সংগঠন আহত শিশু ও তাদের পরিবারের যত্ন নিতে প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও জার্মানি যুদ্ধ ও সংকটপীড়িত অঞ্চল থেকে শিশুদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজার বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এই মানবিক ঐতিহ্য বন্ধ হওয়া উচিত নয়।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬১ হাজার শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।

অর্থাৎ গড়ে প্রতি ১৭ মিনিটে একজন শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে বহুবার বাস্তুচ্যুত, অনাথ ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া টানা হামলায় ইসরায়েল গাজায় ৬৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে ইসরায়েল একাধিকবার সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র : আনাদুলু এজেন্সি