রাজশাহী

তানোরে আলুর ন্যায্য দামের দাবিতে কৃষক সমাবেশ

নিউজ ডেস্ক২৬ অক্টোবর ২০২৫২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহীর তানোরে সার সিন্ডিকেট, সেচের পানির সমস্যা, কীটনাশকের অনিয়ম এবং আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিতের দাবিতে কৃষক সমাবেশ করেছে কৃষকরা।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১২টার দিকে তানোর উপজেলা চত্বরে বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক আয়োজিত এ কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত দামে প্রয়োজন মতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ বাজারে বেশি দামে কিনতে চাইলে তখন আবার সারের কোনো অভাব থাকে না। এ নিয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের জানালে তাঁরা বলেন, “সার বাইরে থেকে আসে, তাই দাম বেশি।” এমন মন্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানান কৃষকরা।

বক্তারা বলেন, অবিলম্বে সার সিন্ডিকেট বন্ধ করে সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।

তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, একক ব্যক্তিকে সেচ কার্যক্রমের দায়িত্ব দেওয়ায় চলছে চরম স্বেচ্ছাচারিতা। এতে আলু চাষে প্রতি বিঘায় দেড় হাজার টাকা এবং ধান চাষে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত সেচ খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। একক ব্যক্তির লাভের চিন্তায় প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি দেওয়া হচ্ছে, ফলে ফলন কমে যাচ্ছে—কৃষক একদিকে ক্ষতির মুখে, অন্যদিকে খরচও বাড়ছে।

বক্তারা বলেন, সেচ স্কিমের আওতাভুক্ত কৃষকদের নিয়ে সেচ কমিটি গঠন করতে হবে এবং সেচ কার্যক্রম সমিতির মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে, যাতে স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হয়।

এছাড়া কৃষকরা অভিযোগ করেন, কীটনাশকের দাম ও মান দুটিতেই অনিয়ম চলছে। কীটনাশকের প্যাকেটে দাম লেখা থাকে ৯০০ টাকা, কিন্তু বাজারে বিক্রি হয় ৫০০–৬০০ টাকায়। আগে এক মৌসুমে ২–৩ বার কীটনাশক ব্যবহার করলেই হতো, এখন ৬–৭ বার দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে স্পষ্ট, ভেজাল কীটনাশক কৃষকদের ক্ষতির মুখে ফেলছে।

তারা কীটনাশকের নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ ও ভেজাল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সমাবেশে আরও বলা হয়, আলু সংরক্ষণের ষ্টোর ভাড়া আগে ছিল কেজিপ্রতি ৪ টাকা, বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৬ টাকা করা হয়েছে। এতে ধনী মালিকরা লাভবান হলেও সাধারণ কৃষক আরও অসহায় হয়ে পড়েছেন। কৃষকরা বলেন, যে কোনো মূল্যে আগের ভাড়া বহাল রাখতে হবে, যাতে কৃষকদের দুর্দশা কিছুটা লাঘব হয়।

সমাবেশ শেষে কৃষক প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), কৃষি কর্মকর্তা এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সহকারী প্রকৌশলীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে।