ধর্ম

ফজরে অবহেলাকারীর জন্য নবীজির সতর্কবার্তা

নিউজ ডেস্ক২৫ অক্টোবর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ফজরের নামাজ শুধু একটি ফরজ নামাজই নয়, এটি ঈমান ও নিঃস্বার্থ আনুগত্যের পরীক্ষা। কোরআন ও হাদিসে মসজিদে জামাতে ফজরের নামাজ আদায় না করা ব্যক্তিদের ব্যাপারে বহু কঠোর সতর্কীকরণ এসেছে।

১. ফজরের গুরুত্ব বুঝলে মানুষ হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে যেত : ফজর ও এশার নামাজে এমন সওয়াব রয়েছে, যা মানুষ যদি সত্যিই বুঝত, তাহলে ঘুম, ক্লান্তি কিংবা দূরত্ব কিছুই তাকে বাধা দিতে পারত না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি মানুষ জানত যে অন্ধকার (এশা) ও ভোরের (ফজর) নামাজে কী ফজিলত আছে, তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে যেত।

’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৬৮৯)
২. ফজরের নামাজে না ওঠা ব্যক্তির কানে শয়তানের প্রস্রাব : যে ব্যক্তি নামাজের জন্য জাগে না, শয়তান তার ওপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে—এমনকি তার কানেও অপবিত্রতা নিক্ষেপ করে, যাতে সে কখনো আল্লাহর স্মরণে জাগতে না পারে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর সামনে এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো, যে রাতভর ঘুমিয়ে সকাল পর্যন্ত নামাজে ওঠেনি। তখন তিনি বললেন, এমন একজন ব্যক্তি, যার কানে শয়তান প্রস্রাব করেছে।

(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭৮৭৪)

৩. মসজিদে ফজর না পড়া মুনাফিকদের লক্ষণ : নামাজে অলসতা, বিশেষত ফজর ও এশায় অবহেলা মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে ভারী নামাজ দুটি হলো এশা ও ফজর। যদি তারা জানত এই নামাজগুলোতে কী সওয়াব রয়েছে, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এগুলো আদায় করতে আসত। আমি ইচ্ছা করে নামাজ কায়েম করার নির্দেশ দিয়ে একজনকে ইমাম বানিয়ে দিই, তারপর যারা নামাজে উপস্থিত হয় না তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিই।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫৭)

৪. সাহাবারা ফজরে অনুপস্থিতদের সম্পর্কে সন্দেহ করতেন : যে ব্যক্তি জামাতে ফজরের নামাজে অনুপস্থিত থাকে, তার ঈমান দুর্বল বা ভেতরে কোনো সমস্যা আছে।

ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘যদি আমরা ফজর বা এশার নামাজে কাউকে অনুপস্থিত পেতাম, আমরা তার সম্পর্কে খারাপ ধারণা করতাম।’ (তাবরানি শরিফ, হাদিস : ১৩০৮৫)
৫. ফজরের নামাজে অনুপস্থিত ব্যক্তিরা কিয়ামতের দিন আল্লাহর মুখ দেখতে পারবে না : যারা ফজর ও আসরের নামাজ মিস করে, তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর দিদার লাভের মহান সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হবে। জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) এক রাতে পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তোমরা তোমাদের রবকে এমনই পরিষ্কারভাবে দেখবে, যেমন এই চাঁদকে দেখছ বিনা কষ্টে। তাই চেষ্টা করো যেন সূর্যোদয়ের আগে (ফজর) এবং সূর্যাস্তের আগে (আসর) নামাজ থেকে বঞ্চিত না হও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৩৬)

৬. কিয়ামতের দিন ফজরের নামাজে অলস ব্যক্তির মাথা চূর্ণ হবে : নবী করিম (সা.) এক স্বপ্নে দেখেন, ‘দুজন ফেরেশতা আমাকে নিয়ে গেল।

আমি দেখলাম, একজন মানুষ শুয়ে আছে, আরেকজন তার মাথার ওপর দাঁড়িয়ে পাথর ছুড়ে তার মাথা চূর্ণ করছে। তারপর পাথরটি গড়িয়ে পড়ে, ফেরেশতা সেটি আনতে যায়, এদিকে তার মাথা আগের অবস্থায় ফিরে আসে এবং সে আবার সেটিকে পাথর ছুড়ে ভেঙে ফেলে।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘এ লোকটি কে?’ তারা বলল, ‘এ সেই ব্যক্তি যে কোরআন শিখেছে, কিন্তু তা ত্যাগ করেছে এবং নামাজের সময় ঘুমিয়ে থেকেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭০৪৭)