রাজশাহী

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে ভাঙ্গা ৫০ হাজার স্লিপার, ঝুঁকিতে রেল, আসছে ২২ কোটি টাকার প্রকল্প

নিউজ ডেস্ক২৩ অক্টোবর ২০২৫৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০০৩ সাল থেকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আওতায় ৩৪৫ কিলোমিটার লাইনে কংক্রিটের স্লিপার বসানো শুরু হয়। তবে কয়েক বছর যেতে না যেতেই আমদানি করা এই স্লিপারগুলো ভাঙতে শুর করে। এরই মধ্যে কয়েক দফা পরিবর্তনও করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ব্যাপক হারে স্লিপার ভেঙে পড়ায় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ট্রেন চলাচল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় প্রতিদিন টহল দেয়া হচ্ছে রেললাইন। এরই মধ্যে ভাঙ্গা স্লিপারগুলো সরিয়ে নতুন করে বসাতে ২২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে আছে এ প্রকল্পটি। একনেকে পাশ হলেই কাজ শুরু হবে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সবেচেয়ে বেশি স্লিপার ভেঙে পড়েছে পাবনার ইশ^রদী- সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পর্যন্ত। এই ৪৮ কিলোমিটার রেলপথে প্রায় আড়াই হাজার স্লিপার ভেঙেছে বলে রেলেওয়ের দায়িত্বরত একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে কিছু আছে একেবারেই ভেঙে গেছে। আবার কিছু আছে ভাঙা শুরু হয়েছে। তবে এই ৪৮ কিলোমিটারে প্রচুরসংখ্যক স্লিপার ভেঙে পড়ায় ট্রেন চলাচল কিছুটা হলেও ঝুঁকিরমুখে পড়েছে বলেও স্বীকার করেছেন দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তা। ফলে প্রায় প্রতিদিন এই লাইনটি ট্রলি গাড়িতে ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

পাবনার ভাঙ্গুড়ার স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর বলেন, কয়েক বছর আগেই অনেকগুলো স্লিপার পরিবর্তন করতে দেখলাম। এখন আবার প্রচুর পরিমাণে স্লিপার ভেঙে পড়েছে। ফলে ট্রেন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, গত চার বছরে উল্লাপাড়া থেকে চাটমোহর রেলস্টেশন পর্যন্ত রেল লাইনে ট্রেন চলাচলের সময় অন্তত পাঁচবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর বড়ালব্রিজ স্টেশনে ও ২০২৩ সালের ৫ মে উল্লাপাড়ায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ২০২৫ সালের ২৪ জুন ভাঙ্গুড়া স্টেশনের পাশে এবং একই বছর ২০ সেপ্টেম্বর দিলপাশার রেলস্টেশনের পাশে লাইনে ফাটল ধরে বস্তা দিয়ে ট্রেন পারাপার করতে হয়। সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গুড়া স্টেশনের পাশে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে ট্রেন চলাচল ৬ ঘন্টা বন্ধ ছিল।

ঈশ^রদীর মনিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমার মনে হয় কংক্রিটের চেয়ে কাঠের স্লিপার টেকসই বেশি। কংক্রিটের স্লিপার ১০ বছও যাচ্ছে বলে মনে হয় না। কিন্তু কাঠের স্লিপার আমরা তার চেয়ে কয়েকগুন সময় টিকে থাকতে দেখেছি। ৪০-৫০ বছরেও কাঠের সিল্পাওে কিছু হয় বলে মনে হয় না।’
দিলপাশার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন বলেন, প্রতিদিনই রেললাইনের স্লিপার ভেঙে যায়। এতে ট্রেন চলাচলে কিছুটা ঝুঁকি থাকে। তবে প্রায়ই এসব ভাঙা স্লিপার পরিবর্তন করা হলেও স্লিপার ভাঙ্গা রোধ করা যায় না। ফলে মাঝে মাঝেই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে।’

রেলের দায়িত্ব আরকেজন কর্মকর্তা বলেন, জয়দেপুর থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত ৩৪৫ কিলোমিটারে প্রায় ৫০ হাজার স্লিপার ভাঙ্গা আছে। এর বাইরে আরও কিছু স্লিপার ভাঙার কবলে পড়েছে। সেগুলোতে ফাটল ধরে আছে। যেগুলো একেবারেই ভেঙে পড়েছে, সেগুলো দ্রুত পরিবর্তন করা দরকার। কিছু জরুরীরিভাবে পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু ঢালাওভাবে পরিবর্তন করা যাচ্ছে না বাজেট না থাকায়। তবে ভাঙা স্লিপারসহ আনুসঙ্গিক জিনিসপত্র পরিবর্তন ও অন্যান্য খরচ মিলে ৫ বছর মেয়াদি ২২ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি একনেকে পাশ হলেই পরবির্ত কাজ শুরু হবে।”

পশ্চিমাঞ্চল রেওলয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘জয়দেপুর থেকে পাবর্তীপুর পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার স্লিপার ভাঙার তথ্য আছে আমার কাছে। তবে এর জন্য রেল তেমন ঝুঁকিতে নাই। যে হারে স্লিপার ভেঙেছে, তাতে মোট লাইনের সাড়ে ৫ লাখ স্লিপারের মধ্যে বড় জোর ২-৪ ভাগ স্লিপার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর ফলে ঝুঁকি তেমন নাই। তার পরেও এই স্লিপারগুলো দ্রুত পরিবর্তনের জন্য আমরা নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এটি পাশ হলে আগামী ৫ বছর এই লাইনের স্লিপার নিয়ে অন্তত চিন্তা করা লাগবে না। এই সময় ধরে স্লিপার পরিবর্তনসহ আনুসঙ্গিক কার হবে।’

তিনি আরও বলেন, এবার আর আমদানী নয়, দেশেই তৈরী হচ্ছে কংক্রিটের স্লিপার। আমরা দেশে তৈরী স্লিপারই ব্যবহার করবো। তবে কাঠের চেয়ে কংক্রিটের স্লিপারই বেশি টেকসই।’