নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল), রাজশাহীর ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কাযালয়, ঢাকার উপসহকারী পরিচালক মোঃ রোকনুজ্জামান বাদী হয়ে দুদক মামলাটি দায়ের করেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণে দুদক জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের স্মারক নং: ০০.০১.০০০০.১০৯.২৮.০০১.২৩.১৮৬৯, তারিখ: ২৯.১২.২০২৪ খ্রি.মূলে রেলপথ মত্রণালয়ে একটি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল এর কন্ট্রোলার অব স্টোরস (সিওএস) এর দপ্তর হতে ২০১৮-২০১৯ সালে রেলওয়ের আধুনিকায়নের নামে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালা, বালতি, বাঁশি ও ঝান্ডা ক্রয়ে অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ড. ভুবন চন্দ্র বিশ^াস, অতিরিক্ত সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়-এর নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটির দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়,তালা ক্রয়ে ইউনিট প্রতি ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয় ৫,৫৯০/- টাকা, কিš‘ বিভাগীয় তদন্তকালে প্রাপ্ত বাস্তবিক মূল্য পাওয়া যায় ১৭৩/-(ভ্যাট, আইটি ও মুনাফাসহ) টাকা। সুতরাং তালা ক্রয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের পরিমাণ ১০,৮৩,৪০০/- টাকা। অপরদিকে বালতি, বাঁশি ও ঝান্ডা ক্রয়ে ইউনিট প্রতি ব্যয়িত বা পরিশোধিত মূল্য যথাক্রমে ১৮৯০/-,৪১৫/- ও ১৪৪০/- টাকা, কিš‘ বিভাগীয় তদন্তকালে প্রাপ্ত বাস্তবিক মূল্য (ভ্যাট, আইটি ও মুনাফাসহ) যথাক্রমে ২৬০/-,৬৫/- ও ৯৮/- টাকা।
অতএব, বালতি, বাঁশি ও ঝান্ডা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৭,৯৮,৬০০/- টাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্নসাত করেছেন মর্মে বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়। যা প্রতিটি পণ্য ক্রয়ে বাস্তবিক বাজাদর অপেক্ষা প্রায় ১৫ থেকে ৩৩ গুণ অধিক হারে মূল্য পরিশোধ করে ০৪ ধরণের পণ্য ক্রয় করা হয়। অর্থাৎ প্রাক্কলন ও মূল্যায়ন কমিটি, অনুমোদনকারী কর্মকর্তা এবং ঠিকাদার পরস্পর যোগসাজশে মোট ১৮,৮২,০০০/- টাকা অধিক মূল্য দেখিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্নসাত করেন।
অভিযানকালে বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায়, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলে ভিআইপি পর্দা ক্রয়ে প্রাক্কলন ও মূল্যায়ন কমিটি, অনুমোদনকারী কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারের সহায়তায় একই প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক দরে মোট ৫০টি ভিআইপি পর্দা ক্রয়ে মোট ৪৪,৪১,৩০০/- টাকা দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে আত্নসাত করেন। অনুরুপভাবে,লাগেজ ফিতাসহ ওয়াগন কার্ড ক্রয় প্রক্রিয়ায় মোট ২৬,৩৭,২৫০/- টাকা এবং ভিজিটিং চেয়ার, পেডাল ডাস্টবিন,লাগেজ ট্রলি,পাপোশ, তোশিবা ফটোকপিয়ার, স্টিলফ্রেমের চেয়ার, লেদার ক্যাশ ব্যাগসহ আরও মোট ১৩ ধরণের পণ্যে ক্রয়ে প্রাক্কলন কমিটি, মূল্যায়ন কমিটি ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ এবং ঠিকাদারের সহায়তায় সর্বমোট ১,২৮,৫৩,৪৪৬/- টাকা দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাতের করেন।
মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ০৪ টি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ১৭ ধরণের পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রাক্কলন কমিটি কর্তৃক বাজারদর যাচাই না করেই নিজে লাভবান হওয়া ও অন্যকে লাভবান করার হীন উদ্দেশ্যে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ১৫ থেকে ৩৩ গুণ পর্যন্ত দর নির্ধারণ করে দরপত্র আহ্বান করেন। যেখানে ১৬৬ টি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ০৬ টি ভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে এবং কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়। এ ক্ষেত্রে দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটি কর্তৃক প্রাপ্ত স্পেসিফিকেশন, প্রাক্কলিত মূল্য ও বাজারদরের সামঞ্জস্যতা যাচাই না করেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে পণ্যের প্রকৃত মূল্যেও চেয়ে ৩৩ গুণ পর্যন্ত বেশি হওয়া সত্ত্বেও তা সঠিক হিসেবে গ্রহণপূর্বক ক্রয়ের পক্ষে সুপারিশ প্রদান করেন। অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা অনুমোদন/বাতিল/পুন:দরপত্র আহ্বান করার পূর্ণ ক্ষমতা থাকলেও অনুমোদনকারী কর্মকর্তা বর্ণিত ক্রয় কার্যক্রম প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদনপূর্বক ২,১৮,১৪,১৯৬/- (দুই কোটি আঠারো লক্ষ চৌদ্দ হাজার একশত ছিয়ানব্বই) টাকা আত্নসাত করে দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন মর্মে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়।
তৎপ্রেক্ষিতে আসামী (১) জনাব খোন্দকার শহিদুল ইসলাম (৬৫),সাবেক মহাব্যব¯’াপক, বাংলাদেশ রেলওয়ে; পিতা: সাইদ হোসেন খোন্দকার, বর্তমান ঠিকানা: বাসা-৪/এ, রোড- ৪/সি, সেক্টর-৩, ওয়ার্ড নং- ১ (পার্ট), উত্তরা পশ্চিম, ঢাকা; স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম/বাসা- বড়পাছা (পাল পাড়া), উপজেলা- নাটোর সদর, জেলা- নাটোর; (২) জনাব মো: খায়রুল আলম (৬৬),সাবেক সিওসি (পশ্চিম), বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিতা: ইদ্রিস আলী, বর্তমান ঠিকানা: বাসা-ডি/১৫-সি, রেলওয়ে স্টাফ কলোনী, ওয়ার্ড নং- ১১ (পার্ট), শাহজাহানপুর, ঢাকা; স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম/বাসা- বাইগুনী, ইউনিয়ন- দূর্গাহাটা, উপজেলা- গাবতলী, জেলা- বগুড়া; (৩) জনাব মো: বেলাল হোসেন সরকার (৫০), সাবেক সিওসি (পশ্চিম),বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিতা: ইয়াকুব আলী সরকার, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: পশ্চিম গোপালপুর, কিশোরগাড়ী, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা; (৪) জনাব মো. মজিবুর রহমান, প্রাক্তন মহাব্যব¯’াপক (পশ্চিম),বাংলাদেশ রেলওয়ে, বর্তমান ঠিকানা: ৬০/ক/২এ, মেরাদিয়া মেইন রোড, খিলগাঁও-১২১৮, ঢাকা, (৫) জনাব মো: জাহিদ কাওছার (৬১),সাবেক এসিওএস, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিতা: আব্দুল কাদের, বর্তমান ঠিকানা: বাসা-০২৪৪/১, আমির গঞ্জ, জিয়ামত আলী সড়ক, ওয়ার্ড নং- ০১, পার্বতীপুর, দিনাজপুর; স্থায়ী ঠিকানা: পশ্চিম পাড়া, গোডউন রোড, গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা; (৬) জনাব ফুয়াদ হোসেন আনন্দ (৩৮),সাবেক ডেপুটি সিসিএম (পশ্চিম), বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিতা: ফেরদৌস হোসেন, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: গোরস্থান পাড়া, ১/১ হেলাল রোড, ওয়ার্ড নং- ০৬, গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা; স্থায়ী ঠিকানা: পশ্চিম পাড়া, গোডউন রোড, গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা; (৭) জনাব শ্যামলী রাণী রায় (৪৩),সাবেক ডিএফএ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিতা- নরেন্দ্র নাথ রায়, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: ৮/এ, পবা পাড়া, ওয়ার্ড-১৮ (পার্ট), শাহ মখদুম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, রাজশাহী; (৮) জনাব মো: আলামিন তালুকদার (৪৪), সাবেক উ”চমান সহকারী, বর্তমানে সিওসি (পূর্ব) কর্মরত, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিতা: মো: আমিনুর রহমান, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: আয়মাপুর, সরদারপাড়া, ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট; (৯) জনাব মো: আলমগীর হোসেন (৬৪),সাবেক ডিএফএ অর্থ (পশ্চিম),বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিতা- শাহজাহান, বর্তমান ঠিকানা: ১০৮/২, উপশহর, ০২ নং সেক্টর, ওয়ার্ড- ১৪ (পার্ট), বোয়ালিয়া, রাজশাহী; স্থায়ী ঠিকানা: ব্যাপারী পাড়া, আব্বাস উদ্দীন সড়ক, ঝিনাইদহ সদর, ঝিনাইদহ (১০) জনাব এ এম এম শাহনেওয়াজ (৫৫),সাবেক সিওপিএস (পশ্চিম),বাংলাদেশ রেলওয়ে, বর্তমান ঠিকানা: এফ-২৩ ই, রেলওয়ে স্টাফ কলোনী, ফ্রান্সিস রোড, কদমতলী, ওয়ার্ড-১৫ (পার্ট), চট্টগ্রাম; স্থায়ী ঠিকানা: মল্লিক ডুবা, কেশবপুর, বাউফল, পটুয়াখালী; (১১) জনাব মো: শরিফুল ইসলাম (৫৬),সাবেক এফএএন্ডসিএও (পশ্চিম), বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিতা- ইদ্রীস আলী, বর্তমান ঠিকানা: ৫১০/৫১১, উত্তর ইব্রাহিমপুর, ওয়ার্ড- ১৬, কাফরুল, ঢাকা; স্থায়ী ঠিকানা- কামাল হাট, খালকুলা, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ (১২) জনাব মোছা: হাসিনা খাতুন,সাবেক ডেপুটি সিওপিএস (পশ্চিম),বাংলাদেশ রেলওয়ে, বর্তমান ঠিকানা: অফিসার্স কলোনী, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পাকশী, পাবনা; স্থায়ী ঠিকানা: গোপীনাথপুর, গোলাবাড়ী-৬২৬০, দূর্গাপুর, রাজশাহী, (১৩) জনাব মো: মসিহ উল হাসান(৬২), সাবেক এফএএন্ডসিএও (পশ্চিম),বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিতা: জাওহার- উল হক, বর্তমান ঠিকানা: ১৮৪/২ মালিবাগ চৌধুরী পাড়া, ওয়ার্ড-২৩, খিলগাঁও, ঢাকা; স্থায়ী ঠিকানা- নামোসংকর বাটি, চাপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাপাইনবাবগঞ্জ; (১৪) জনাব শেখ আব্দুল জব্বার, সাবেক এসিসিএম (পশ্চিম), বাংলাদেশ রেলওয়ে, আঃ গণি রোড ৭৩/৯, সোনাডাঙ্গা, খুলনা, (১৫) জনাব মো: গোলাম রব্বানী, সাবেক অতি: এফএএন্ডসিএও (পশ্চিম),বাংলাদেশ রেলওয়ে, সরকারি আবাসন, বাবর রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা;(১৬) জনাব গোলাম রহমান (৫২),সাবেক অতিরিক্ত এফএএন্ডসিও, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিতা- নজির হোসেন, বর্তমান ঠিকানা: ৮৫/এফ আজিমপুর কলোনী, ওয়ার্ড- ২৬, লালবাগ, ঢাকা; স্থায়ী ঠিকানা: পূর্বদেবু, তাম্বুলপুর, রংপুর সদর, রংপুর, (১৭) জনাব সরোজ কান্তি দেব(৬৫), সাবেক এফএএন্ডসিও (পশ্চিম),বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিতা- ভুপেশ কান্তি দেব, বর্তমান ঠিকানা- ৮১/এ এস এস খালেদ রোড, ৩ সি, চৌধুরী হাউজ, ওয়ার্ড নং- ২১, কোতয়ালী, চট্টগ্রাম, (১৮) জনাব মিহির কান্তি গুহ(৬২),সাবেক সিসিএম (পশ্চিম),বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিতা- দেব প্রসাদ গুহ, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: প্লট- ৮৫, রেলওয়ে হাউজিং, ওয়ার্ড নং- ০৯, খুলশী, চট্টগ্রাম –দের বিরুদ্ধে অত্র মামলা রুজু করা হয়।









