সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
প্রদাহ শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক অংশ। তবে এটি যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তা হলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ একাধিক জটিল স্বাস্থ্যসমস্যার জন্ম দিতে পারে। চলুন, জেনে নিই দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহে কী কী সমস্যা হতে পারে।
হৃদরোগ ও অন্যান্য জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়ে
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবাটিস, কিছু ধরনের ক্যান্সার ও আর্থ্রাইটিসের মতো অসুখের সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্ষতি হয়
প্রদাহ বাড়লে পেশিতন্তু, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এমনকি রক্তনালীগুলোরও ক্ষতি হতে পারে।
মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে
বস্টনের টাফ্টস ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রদাহ বাড়লে ‘ব্রেন ফগ’ বা মানসিক ঝাপসাভাব তৈরি হয়। এতে মনোযোগ কমে যায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়, বিভ্রান্তি, বিষণ্ণতা ও উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।
শরীরে ব্যথা বাড়ে
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ পেশির টান, গাঁটে ব্যথা বা অন্যান্য শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
হজমের সমস্যা তৈরি হয়
অতিরিক্ত প্রদাহ পেটের গ্যাস, বদহজম বা হজম সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যাও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ত্বকে প্রভাব ফেলে
প্রদাহের প্রভাবে ত্বকে র্যাশ, ফোলা বা চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কোন খাবার প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে?
শাকসবজি
সবুজ শাকপাতা, যেমন পালংশাকে রয়েছে ফেনোলিক উপাদান, ক্যারোটিনয়েডস ও নাইট্রেট।
যা প্রদাহ কমাতে ও শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে।
কফি
কফিতে আছে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড এবং ক্যাফেইন, যা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে এবং প্রদাহ কমায়।
হলুদ
হলুদের প্রধান উপাদান কারকিউমিন। এটি একটি শক্তিশালী প্রদাহনাশক উপাদান, যা অস্থিসন্ধির ব্যথা ও আড়ষ্টতা কমাতে সাহায্য করে।
গাঢ় রঙের ফল
বেদানা, চেরি, কালো আঙুরের মতো ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্থোসায়ানিন থাকে, যা প্রদাহ কমিয়ে শরীরকে পরিষ্কার রাখে।
বাদাম ও বীজ
কাঠবাদাম, আখরোট, চিনাবাদামে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমাতে কার্যকর।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে থাকা পলিফেনল ও ইপিগ্যালোক্যাটেচিন গ্যালেট প্রদাহ কমানোর ক্ষেত্রে দারুণ উপকারী।
আদা
আদায় রয়েছে জিঞ্জেরল ও শুকনো আদায় থাকে শোগাওল। এই দুটি জৈব উপাদান প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়।
স্বল্পমাত্রার প্রদাহ শরীরের সুরক্ষার অংশ হলেও, দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।
সূত্র : আনন্দবাজার









