নাটোর

১৫ বছরেও শেষ হয়নি উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু হত্যার বিচার

নিউজ ডেস্ক৮ অক্টোবর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন তিনি। চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৫ বছরেও বিচারকাজ সম্পন্ন হয়নি। এতে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

পুলিশ সূত্র জানায়, হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৯ জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নাটোর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল হাই সরকার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এর আগে থানা-পুলিশ, র‍্যাবসহ মোট ৯ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত করেন।

অভিযোগপত্রে বনপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কে এম জাকির হোসেন, মাঝগাঁও আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খোকন মোল্লা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কে এম জিল্লুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামসহ মোট ৪৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অপর আসামি বাদশা মিয়া তদন্ত চলাকালে মারা যাওয়ায় তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।

আসামিরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের বাজারঘাটে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মামলার আইনজীবী শরিফুল ইসলাম মুক্তা বলেন, ‘সিআইডি যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমরা নারাজির আবেদন দিয়েছিলাম। নাটোর আদালতে সেই আবেদন বাতিল হওয়ায় ঢাকা হাইকোর্টে আবেদন করেছি।

সেখানে অপেক্ষমাণ রয়েছে।’
মামলার বাদী ও নিহত বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় আমরা খুশি ছিলাম। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি অসংলগ্ন হওয়ায় সন্তুষ্ট হতে পারিনি। তাই নারাজি দিয়েছিলাম।’

উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে হত্যা করার পরও খুনিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আমরা কি সভ্য সমাজে বসবাস করছি? এই হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করে খুনিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে নিহত সানাউল্লাহ নূর বাবুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে বনপাড়া বাজারে শহীদ বাবু চত্বরে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুরের জনসাধারণের ব্যানারে সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে স্ত্রী মহুয়া নূর কচির। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান।

২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া শহরে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। সেখানে জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি, সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের যোগদানের কথা ছিল। তাঁর পৌঁছানোর আগেই সানাউল্লাহ নূর বাবু মিছিল নিয়ে বনপাড়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালালে গুরুতর আহত হন বাবু। ওইদিন বিকেলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

পরদিন বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন এবং পরে আদালতে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়।