সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
ফিটকিরি সোডিয়াম ও অ্যালুমিনিয়ামের একটি যৌগ লবণ। একপ্রকার অর্ধ স্বচ্ছ কাচের মতো কঠিন পদার্থ। এর রাসায়নিক নাম পটাশ অ্যালাম। রান্নাঘরে এক টুকরো ফিটকিরি রেখে দিলে তা অনেক কাজে দেয়।
আগেকার দিনে বেশির ভাগ বাড়িতেই ফিটকিরি ব্যবহারের চল ছিল। তার কারণ, এর উপকারিতা অনেক। যেমন পানিতে ফিটকিরি ফেলে দিলে অনেক ক্ষতিকর জীবাণু দূর হয়। তবে আরো বেশ কিছু কাজে ফিটকিরি কাজে লাগাতে পারেন।

চলুন, জেনে নেওয়া যাক—
ফ্রিজের গন্ধ দূর করতে : ফ্রিজে অনেক সময় দুর্গন্ধ হয়। সেই দুর্গন্ধ খাবারেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই ফ্রিজের ভেতরে এক টুকরো ফিটকিরি রেখে দিলে সবজি ও খাবারের কারণে তৈরি হওয়া ভ্যাপসা, বোঁটকা গন্ধ থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
ঘামের গন্ধ দূর করতে : গরমে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করে ফিটকিরি।
ফিটকিরির গুঁড়া পানির সঙ্গে মিশিয়ে বাহুমূলের অংশ ধুয়ে নিন। ঘামের দুর্গন্ধ কমে যাবে।
রান্নাঘর পরিষ্কার করতে : রান্নাঘর ঝকঝকে ও জীবাণুমুক্ত করতেও ফিটকিরি ব্যবহার করতে পারেন। খানিকটা পানি গরম করে তাতে ফিটকিরির টুকরো মিশিয়ে দিন। ৫-১০ মিনিট রেখে দিতে হবে।
এবার ফিটকিরি তুলে নিয়ে সেই পানিতে কাপড় চুবিয়ে সেটি দিয়ে রান্নঘরের তাক পরিষ্কার করুন। সাধারণ পাউডারের তুলনায় বেশি পরিষ্কার হবে।
ব্রণ দূর করতে : ব্রণের দাগ দূর করতে ফিটকিরির সাহায্য নিতে পারেন। অল্প একটু গোলাপজলের মধ্যে ফিটকিরির গুঁড়ো মিশিয়ে তা ত্বকে মাখলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া ত্বকে ব্রণ তৈরি হলে তাও দূর করতে পারে। এর জন্য এক চা চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে দুই চা চামচ ডিমের সাদা অংশ ও এক চা চামচ ফিটকিরির গুঁড়া মেশান। প্যাকটি মুখে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন ১৫ মিনিট। সপ্তাহে কয়েকবার ব্যবহার করলে দূর হবে ব্রণ।
ব্যকটেরিয়া দূর করতে : দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়ার কারণে অনেক সময় মুখে দুর্গন্ধ হয়। ফিটকিরি এই ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে। এর জন্য এক গ্লাস পানি ফুটিয়ে এক চিমটি লবণ ও ফিটকিরির গুঁড়া মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হলে কুলকুচি করুন। নিয়মিত ঘুম থেকে উঠে আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে এভাবে কুলকুচি করলে মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার থেকে দ্রুত মুক্তি মিলবে।
পানি পরিশুদ্ধ করতে : খাবারের পানিতে এক টুকরা ফিটকিরি ফেলে রাখুন। পানির মধ্যে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন ক্ষতিকর কণা ধীরে ধীরে নিচে থিতিয়ে পড়ে যাবে। তারপর বাকি পরিষ্কার পানি ছেঁকে খেয়ে ফেলুন।
বেকিং পাউডারের বিকল্প : এই পদ্ধতিটি সবসময়ে নিরাপদ না হলেও কেউ কেউ রুটি, পাঁউরুটি বা কেক বেকিংয়ের ব্যাটারে ফিটকিরি গুঁড়া মিশিয়ে দেন। তাতে ভালো বেক হয়।
গলা ব্যথা কমায় : আগেকার দিনে ফিটকিরি গুঁড়ার সঙ্গে মধু ও আদা মিশিয়ে খাওয়া হতো। এই ঘরোয়া টোটকায় গলার ব্যথা সেরে যেত। এতে অ্যান্টিসেপ্টিক বৈশিষ্ট্য আছে বলে মনে করা হয়।
প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ : আচারে ফিটকিরি মেশালে অনেক দিন রেখে দিলেও তা নষ্ট হয়ে যায় না বলেই মনে করা হয়। আগে এভাবে অনেকে ঘরে আচার বানাতেন।
ফুল তাজা রাখে : ফুলদানিতে কয়েকটি ফিটকিরির গুঁড়া ঢেলে দিলেই অনেক দিন পর্যন্ত ফুল তাজা রাখতে পারে। ফুলের রং খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে মুহ্যমান হয়ে পড়ে না।









