লাইফ স্টাইল

চুল সোজা করতে গিয়ে শরীরে ছড়াচ্ছে বিষ! গবেষণায় উঠে এলো যে তথ্য

নিউজ ডেস্ক৬ অক্টোবর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

অনেকেই চুলকে সোজা ও মসৃণ রাখার জন্য নিয়মিত হেয়ার স্ট্রেটনার ব্যবহার করেন। পার্টি, অফিস বা প্রতিদিনের লাইফস্টাইলে চুলের নিখুঁত লুক পেতে হেয়ার স্ট্রেটনার যেন অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।

তবে অনেকেই জানেন না, নিয়মিত চুল সোজা করার এই অভ্যাস বাড়াতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন ভয়ংকর তথ্য।

নিয়মিত হেয়ার স্ট্রেটনার ব্যবহার করলে জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে বলে মত গবেষকদের।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত রাসায়নিক স্ট্রেটনার ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে জরায়ু ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

গবেষণার তথ্য বলছে, হেয়ার স্ট্রেটনারে থাকা কিছু রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। আর এই কারণেই দীর্ঘ মেয়াদে ক্যান্সারের আশঙ্কা বাড়ে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া কয়েক হাজার নারীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যারা বছরে কয়েকবারের বেশি স্ট্রেটনার ব্যবহার করেন, অন্যদের তুলনায় তাদের জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্তে হার দ্বিগুণেরও বেশি।

কিভাবে ক্ষতি করে এই রাসায়নিক

বেশির ভাগ হেয়ার স্ট্রেটনারে থাকে ফরমালডিহাইড, ফথালেটস ও প্যারাবেনের মতো উপাদান, যা উত্তাপে বাষ্প হয়ে মাথার ত্বক বা শ্বাসনালির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এই ক্ষতিকর পদার্থগুলো শরীরে হরমোনের কার্যপ্রণালী ব্যাহত করে, কোষের ডিএনএ ক্ষতি করতে পারে, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। আর এগুলোই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

তবে শুধু ক্যান্সার নয়, নিয়মিত হেয়ার স্ট্রেটনার ব্যবহারের আরো নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। যেমন স্ট্রেটনারের উচ্চ তাপমাত্রার কারণে চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়। ফলে চুল ভেঙে যায় বা পড়তে শুরু করে, স্ক্যাল্পে জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা যায়, চুলের গঠন বদলে যায়, স্থায়ীভাবে পাতলা হয়ে যায়, চুলে উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং চুল ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।

 

এ ছাড়া রাসায়নিকের বাষ্পের কারণে অনেকের চোখ জ্বালা, মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও হয়।

কিভাবে ঝুঁকি কমাবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেয়ার স্ট্রেটনার একেবারে বাদ দেওয়া না গেলেও কিছু সতর্কতা মানলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

যেমন-
যতটা সম্ভব রাসায়নিকবিহীন বা ‘ফরমালডিহাইড-ফ্রি’ স্ট্রেটনার ব্যবহার করুন।
প্রতিদিন নয়, বরং বিশেষ দিনেই হেয়ার স্ট্রেটনার ব্যবহার করুন।
চুল স্ট্রেট করার আগে হিট প্রোটেক্ট্যান্ট সিরাম বা স্প্রে ব্যবহার করুন।
স্ট্রেটনারের তাপমাত্রা কম রাখুন এবং চুলে এক জায়গায় বারবার প্রয়োগ করবেন না।
ব্যবহারের সময় ঘরের জানালা খুলে রাখুন বা ফ্যান চালান, যাতে বাষ্প সরাসরি শ্বাসে প্রবেশ করতে না পারে।
সপ্তাহে একদিন ডিপ কন্ডিশনিং বা অয়েল ট্রিটমেন্ট করে চুলের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

হেয়ার স্ট্রেটনার ব্যবহারের পর আপনি যদি কয়েকটি লক্ষণ অনুভব করেন তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। যেমন- চুল দ্রুত ঝরে যাওয়া, মাথার ত্বকে জ্বালা, পোড়া বা লালচে দাগ, অনিয়মিত ঋতুচক্র বা হরমোনজনিত পরিবর্তন। সে ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা ধরা পড়লে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

সূত্র : আজকাল