জাতীয়

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ।

পরে বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে দুপুরে প্রধান শিক্ষকের কিছু বহিরাগত সমর্থক ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে স্থানীয় অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালে তারা পালিয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, গত সোমবার সকালে ওই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিজ রুমে ডেকে নেয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম।

ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন ওই শিক্ষক। বিষয়টি ঘটনার দিনই স্কুলের শিক্ষকদের জানালে তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এরই জের ধরে বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে ক্লাস বন্ধ দিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে পালিয়ে যায় প্রধান শিক্ষক।

কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষকের কিছু বহিরাগত সমর্থক ছাত্রদের ওপর হামলা করে। এতে তিনজন শিক্ষার্থী আহত হয়। হামলার পর অভিভাবকরা এসে ছাত্রদের পাশে দাঁড়ালে পালিয়ে যায় বহিরাগতরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপরেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যায়।

পরে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস, থানার ওসি মাসুম খান ঘটনাস্থলে যান। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ স্থগিত করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিগ্ধা দাস বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সবাই যার যার বাড়িতে ফিরে গেছে। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করব। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’