রাজশাহী

বাড়ি তৈরী করতে গিয়ে ভাড়া বাড়ির পাশে ঝরলো রুয়েট শিক্ষার্থীর প্রাণ

নিউজ ডেস্ক৫ এপ্রিল ২০১৭৩ মিনিট পড়া

শফিক আজম:

বাবা মাহাবুল ইসলাম পল্লী বিদ্যুতের চাকরির সুবাদে গত কয়েক মাস আগে সিলেটে বদলি হয়ে গেছেন। এরপর থেকে রুয়েট শিক্ষার্থী আরিফ আরমান সজিবের (২৫) ওপরই ছিল তাদের বাড়ির নির্মাণকাজ দেখা-শোনার কাজ। নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায় তাদের বাড়ির নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন বাড়ির দরজা-জানালা, প্রাচীরের গ্রিল লাগানোর কাজ চলছিল।

 

  • কিন্তু সেই বাড়ির শেষ কাজ আর করতে পারলেন না সজিব। তার আগেই বাড়ির দরজা তৈরীর জন্য টাকা দিতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরতে হলো তাকে। তিনি যেখানে নিহত হলেন, সেখান থেকে তাঁদের ভাড়া বাড়িটির দূরুত্ব সর্বসাকুল্যে ৫০ গজ দূরে। আর সেখানেই বুধবার রাত পৌনে আটটার দিকে নগরীর দরিখরবোনা এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ঝরলো সজিবের প্রাণ। 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা সিল্কসিটি নিউজকে জানান, সজিব তাদের বাড়ির দরজা তৈরীর টাকা দিতে গিয়েছিলেন দরিখরবোনা রেললাইনের পাশে অবস্থিত মন্টুর ওয়েলডিং-এর দোকানে। তাকে টাকা দিয়ে ফোনে কথা বলতে বলতে বাড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন সজিব। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন তাকে এসে ধাক্কা দেয়। ট্রেনটি তাকে প্রায় একশ গজ দূরে নিয়ে রেললাইনের ওপরেই ছিটকে ফেলে চলে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

  • স্থানীয় ফয়সাল নামের এক যুবক সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, রেলওয়ে লাইনে পা দিয়েছে আর সবাই নিষেধ করছে যেন না যায়। ট্রেন আসছে বলে চিৎকার দিতেই সে ভয়ে দোড় দিতে লাগে। সে সময় ট্রেনের ধাক্কা লাগে।

 

  • স্থানীয় আঞ্জুমান আরা আরজু সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, সজিবদের দাদা বাড়ি গোদাগাড়িতে। আর রাজশাহীর শালবাগানে তার নানিবাড়ি। সজিবরা বেশ কয়েক বছর আমাদের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। এখন পাশের এক বাসায় ভাড়া থাকে। সজিবের বাবা এখন সিলেটে চাকুরী করেন। তার মা ১৬দিন  হলো সিলেটে গেছে। তারা প্রায়ই আমাদের বাড়িতে আসতো।

 

তিনি বলেন, ট্রেন আসার সময় আমি বাড়ির বাইরেই ছিলাম। ট্রেন আসছে বলে চিৎকার করে এক ছেলেকে আমিই রেল লাইন থেকে সরিয়ে দিলাম। এরপর হঠাৎ শুনি কোন ইঞ্জিনিয়ারের ছেলে ট্রেনে কাটা পড়েছে। আমি দৌড়ে ওই ভবনের বাসায় গিয়ে তাকে খুঁজি। তাদের গেটের দরজা খোলা ছিল। দরজা খুলে সজিবের নানিকে জিজ্ঞাসা করি সজিব কোথায়। কিন্তু তারা বলতে পারেনা। কারণ বাইরে যাওয়ার সময় সজিব তাদের কিছু বলে যায়নি।সজিবের মোবাইল ফোনে কল করা হলে জানা যায় তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল বিছানায় আছে। পরে রেললাইনের কাছে গিয়ে দেখি সজিব পড়ে আছে।

 

  • সজিবের মামা মোস্তাফিজুর রহমান হিরু বলেন, তেরোখাদিয়ায় তাদের নিজস্ব বাড়ির কাজ চলছে। এই এলাকার একটি দোকানে বাড়ির মূল দরজা বানানোর ওর্ডার দিয়েছিল। সে দরজা আজ দুপুরে হাতে পাওয়ায় টাকা পরিশোধ করতে আসছিল। ফিরতেই এই ঘটনা। আমি খবর পেয়ে এসে দেখি লাশ।

খবর পেয়ে রেলওয়ে জিআরপি থানার পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। রাজশাহী রেলওয়ে জিআরপি থানার এসআই রাজিব হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স/শ