নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে চতুর্থবারের মতো পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবা, পাগলাসহ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ফের তলিয়ে গেছে পদ্মাতীরবর্তী সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল, ফসলি জমি। ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে অনেক বাড়িঘর ও স্থাপনা। তবে কোনো নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
জানা গেছে, বন্যাস্তরের নিচে থাকা পদ্মার চরাঞ্চলের অল্প কিছু বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া নদীতীরের নিচু জমিতে বপন করা মাষকলাইয়ের জমি ডুবে গেছে। পদ্মাতীরে সদর উপজেলার ৭টি ও শিবগঞ্জের ৫টিসহ ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবে) সূত্র জানায়, গত জুলাই মাসের শুরুতে প্রথম দফায় নদীগুলোতে পানি অনেকটা আগাম বাড়তে শুরু করে।
ওই মাসের শেষের দিকে পানি কমতে শুরু করে। ৪ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় পানি বাড়তে শুরু করে। ১৩ আগস্ট জেলার প্রধান নদী পদ্মার পানি বেড়ে বিপৎসীমার মাত্র ৩১ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল। ১৫ আগস্ট নদীগুলো পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে প্রবাহিত হওয়ার পর পানি কমতে শুরু করে।
তৃতীয় দফায় নদীগুলোর পানি সবচেয়ে বেশি বেড়ে অনেক স্থানে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মানুষকে দীর্ঘ দুর্ভোগে ফেলে। পানি নেমে যেতে বেশ কয়েক দিন সময় লেগে যায়।
তৃতীয় দফায় গত ২৭ আগস্ট থেকে আবারও বাড়তে শুরু করে পদ্মার পানি। ৫ সেপ্টেম্বর পদ্মা বিপৎসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার নিচে ২১ মিটারে প্রবাহিত হয়ে কমতে থাকে। মহানন্দা প্রবাহিত হয় বিপৎসীমার ১৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে।
চতুর্থ দফায় গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করে। ১ সপ্তাহে ৫৫ সেন্টিমিটার বা প্রায় ২ ফুট বেড়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিপৎসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুধবার রাতে জেলা পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারত থেকে আসা পানি ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদীগুলোর পানি মৌসুমে ৪ বার বাড়ল। চলতি দফায় আর তেমন বাড়ার সম্ভাবনা নেই। নদীর পানি ২-১ দিন সামান্য বাড়লেও এরপর স্থির হয়ে কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে পদ্মা, মহানন্দার কয়েকটি পয়েন্টে চলমান ভাঙন এখন কম। তবে পানি নামতে শুরু করলে ভাঙন বাড়বে।
চতুর্থ দফায় নদীর পানি বৃদ্ধিতে নিচু জমির কিছু মাষকলাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন, চলমান বৃষ্টিপাতও সমস্যা সৃষ্টি করছে।









