নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ ছাত্রী রাউধা আতিফের (২০) মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রহস্যের জট খুলতে মালদ্বীপ থেকে এসেছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। তারা সোমবার বিকেলে বিমানযোগে রাজশাহীতে এসে পৌঁছান। এরপর বিমানবন্দর থেকে সোজা চলে যান রাজশাহী সার্কিট হাউজে। সেখান থেকে রাতেই যান নগরীর ভেড়িপাড়া এলাকায় অবস্থিত পর্যটন মোটেলে। এরপর মঙ্গলবার সকালে সার্কিট হাউজ থেকে ডিবি পুলিশের কার্যালয় হয়ে একই গাড়ীতে যান ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজে।
- পুলিশ এবং রাজশাহী ইসরামী ব্যাংক সূত্র নিশ্চিত করেছে, মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা যে গাড়ীটি ব্যবহার করছেন, সেটি ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ থেকেই সরবরাহ করা। অথচ রাউধার মৃত্যুর পেছনে এই প্রতিষ্ঠানটিরও কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, সেটিও খুঁজতে এসেছেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু তারা সেই প্রতিষ্ঠানেরই গাড়ী ব্যবহার করা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গতকাল গতকাল দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটের দিকে যখন মালদ্বীপের দুই পুলিশ মোহাম্মেদ রিয়াজ ও আহমেদ আলী রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে পৌঁছেন। ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ থেকে সরবরাহ করা একটি সাদা রং-এর মাইক্রোবাসে করেই তারা সেখানে পৌঁছান। এমনকি গতকাল দুপুরে তাঁরা যখন ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান, তার আগে থেকেই তাঁদের জন্য নাস্তাও তৈরী করে রাখে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের রাজ মেট্রেুা-৫১-০০৩৮ সিরিয়ালের ওই গাড়ী থেকে নামার পর তাঁরা কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুল মুকিত সরকার কক্ষে গিয়ে বসেন। এরপর সেকানে নাস্তা করে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন।


এসময় উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ আব্দুল মুকিত সরকার, ওই কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও রাউধার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এমদাদুর রহমান, রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আল-আমিন, মতিহার থানা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সুশান্ত কুমার রায়, শাহ মখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাশেদুল হক।
- সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মেদ রিয়াজ ও আম্মেদ আলী ওই কলেজে পড়ুয়া মালদ্বীপের তিনজন এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। এরপর মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহী মহানগর পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যান। কলেজ থেকে ২০-২৫ গজ দূরেই অবস্থিত কলেজের ৭ম তলা ভবনের ছাত্রী হোস্টেলের দোতালার ২০৯ কক্ষটিতে যান তাঁরা। যেখানেই থাকতেন মডেল রাউধা আতিফ।
তদন্ত দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন রাউধার ২০৯ কক্ষটির দরজা বাইরে থেকে ভেঙে ভিতরে ঢুকে লাশ উদ্ধারের কোনো আলামত নেই। তবে সজরে ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যাচ্ছে। রাজশাহীর পুলিশ কর্মকর্তারা মালদ্বীপের ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বোঝান, ‘আত্মহত্যার পরে রাউধার সহপাঠিরা ও হোস্টেলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাঁর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে জোর ধাক্কা-ধাক্কি করায় দরজা খুলে যায়। এরপর শিক্ষার্র্থীরা ঝুলন্ত রাউধাকে নিচে নামান। তাঁর গলায় ফাঁস লাগানো ওড়নাটি কেটেই রাউধাকে নিচে নামানো হয়। তৎক্ষণে তিনি মারা গিয়েছিলেন।
পরে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ এসে পুলিশকে খবর দেয়। এরপর পুলিশ এসে রাউধার লাশ উদ্ধার করে এবং আলামত সংগ্রহ করে।
তবে ইসলামি ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের গাড়ী ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কর্মকর্তা আল-আমিন সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘তারা নিজেরাই যোগাযোগ করে গাড়ীটি গাড়ীর ব্যবস্থা করেছেন। আমরা এ নিয়ে কিছু জানি না। আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা সেটি করতাম।’
ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে এসব নিয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ আন্তজার্তিক মডেল ও রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় কর্ষের শিক্ষার্থী রাউধা আতিফের ঝুলন্ত মৃতদেহ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে ২০৯ নম্বর কক্ষে দেখা যায়। রাউধা ওই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গত বছর জানুয়ারিতে মালদ্বীপ থেকে রাজশাহীতে আসেন ডাক্তারি পড়তে। তিনি আন্তজার্তিক মডেল ছিলেন। ‘ভোগ ইন্ডিয়া’র ২০১৬-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রচ্ছদে রাউধার ছবিও প্রকাশ করে। পরে পুলিশ রাউধার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। গত শনিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে রাউধার লাশ রাজশাহী মহানগরীর হেতেম খাঁ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স/আর









