জাতীয়

নিজের জন্য কবর খনন করলেন অস্ট্রেলীয়প্রবাসী ব্যবসায়ী

নিউজ ডেস্ক৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গাছগাছালিতে ঘেরা নিরিবিলি পরিবেশ। চারপাশে সুনসান নীরবতা, যেন প্রকৃতি নিজেও কোনো অদৃশ্য রহস্যকে লুকিয়ে রেখেছে। সেই নীরবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক ব্যতিক্রমী মাটির ঘর। উভয়মুখী দরজা-জানালাবিশিষ্ট ছোট্ট ঘরটির ভেতরে প্রবেশ করলে চোখ আটকে যায় অদ্ভুত এক দৃশ্যে—ঘরের ভেতরে মাটি খুঁড়ে করা হয়েছে একটি কবর, এর ওপর খাটিয়ায় বিছানো আছে কোলবালিশ ও চাদর।

এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দর ইউনিয়নের কচুবাড়ি-কৃষ্টপুর গ্রামের এক বাস্তব চিত্র। এখানে খামারবাড়িতে নিজের জীবদ্দশাতেই কবর খুঁড়ে রেখেছেন ড. গোলাম আল ফারুক নামের এক ধনাঢ্য অস্ট্রেলীয়প্রবাসী ব্যবসায়ী। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া আছেন।

প্রায় তিন বছর আগে তিনি এই কবর খনন করে রাখেন। মাঝে মাঝে তিনি দেশে আসেন এবং এই কবরের ওপরে খাটিয়াতে শুয়ে সময় কাটান।
স্থানীয় লোকজন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মপ্রাণ এই ব্যবসায়ী গ্রামের মানুষের কাছে উদারতা ও দানশীলতার জন্য পরিচিত। তবে সম্প্রতি তার এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জীবিত থাকতেই নিজের কবর খুঁড়ে রাখা—এমন ঘটনা অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হলেও ফারুকের কাছে এটি ছিল শেষ জীবনের শান্তির প্রস্তুতি।
তার বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানায়, তিনি স্থানীয় লোকদের বলতেন মৃত্যু অনিবার্য, তাই আগে থেকেই নিজের শেষ ঠিকানার ব্যবস্থা করে রাখা উচিত। এতে মানুষ মৃত্যুর কথা সর্বক্ষণ মনে রাখতে পারে, জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব বোঝে।

তারা জানান, ফারুক তার খামারবাড়ির এক কোণে বিশেষভাবে এই মাটির ঘর নির্মাণ করেন। ইট-পাথরের পরিবর্তে সাধারণ মাটির দেয়াল, ওপরে টিনের ছাউনি, দুই দিকেই দরজা ও জানালা—দেখতে সাধারণ হলেও ভেতরে রাখা কবর এটিকে দিয়েছে অন্য রকম তাৎপর্য।

কবরের ওপর রাখা হয়েছে একটি কাঠের খাটিয়া, যেখানে তিনি মাঝে মাঝে বিশ্রামও নিতেন বলে দাবি করছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাদের মতে, মৃত্যুর কথা স্মরণ করে নিজের ভেতরে বিনয় ও ভয় জাগ্রত রাখতেই এমন অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন ব্যবসায়ী।

এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম উনি হয়তো মাজার বা ধর্মীয় কোনো স্থাপনা তৈরি করছেন। পরে বুঝলাম, জীবিত থাকতেই নিজের কবর বানিয়েছেন। বিষয়টি আমাদের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও গভীর চিন্তার খোরাক জোগায়।’

আরেকজন তরুণ বাসিন্দা নাজমুল হক বলেন, ‘মৃত্যু নিয়ে মানুষ সাধারণত ভীত থাকে। কিন্তু তিনি মৃত্যুকে খুব সহজভাবে গ্রহণ করেছেন। এ দৃশ্য দেখে আমরাও বুঝতে পারি জীবন ক্ষণস্থায়ী।’

ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় এক মাদরাসার শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, ‘মৃত্যু স্মরণ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। যদিও এভাবে কবর খুঁড়ে রাখা প্রচলিত নয়, তবে এর মাধ্যমে তিনি যে মৃত্যুর কথা সর্বদা স্মরণে রেখেছেন, তা প্রশংসনীয়।