রাজশাহী

রাবিতে হলে ফিরতে দেরি করায় ৯১ ছাত্রীকে তলব, অতঃপর নোটিশ প্রত্যাহার

নিউজ ডেস্ক২ সেপ্টেম্বর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই-৩৬ হলে রাতে দেরিতে প্রবেশ করায় ৯১ জন ছাত্রীকে তলব করে নোটিশ জারি করেছে হল প্রশাসন। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। পরে সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করে নেয় হল কর্তৃপক্ষ।

তবে হল প্রাধ্যক্ষ বলেছেন, ‘সামনে রাকসু নির্বাচনকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের বিপদ না হয়, সতর্কতা অবলম্বনের জন্যই তাদের ডাকা হয়েছে।

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক লাভলী নাহার স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, ‘এতদ্বারা জুলাই-৩৬ হলের অনাবাসিক ও গণরুমের ছাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, দেরিতে (রাত ১১টার পরে) হলে ফেরার কারণে নিম্নে উল্লিখিত ছাত্রীদের ক্রমিক নং ০১-৪৫ পর্যন্ত আগামী ৯ সেপ্টেম্বর রোজ মঙ্গলবার এবং ক্রমিক নং ৪৬-৯১ পর্যন্ত ১০ সেপ্টেম্বর রোজ বুধবার বিকেল ৪টায় প্রাধ্যক্ষ মহোদয়ের অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো।’

এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ এই ঘটনাকে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ এই ধরনের নিয়মকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেক্ষাপটে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘বৈষম্যমূলক’ দাবি করে প্রতিবাদ করছেন তারা।

 

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আনোয়ার হোসেন সামাজিকে যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামক একটি গ্রুপে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘রাবির জুলাই-৩৬ হলের একটা নোটিশ নিউজফিডে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এভাবে নোটিশ দেওয়া উচিত হয়নি হল প্রশাসনের। তারা অন্যভাবে বিষয়টি সমাধান করতে পারতো, এটা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ।’

একই পোস্টে একটি প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, ‘ধরুন, প্রশাসন থেকে এসব নিয়ম তুলে নেওয়া হলো; মেয়েরা যখন খুশি হলে প্রবেশ এবং বাহির হতে পারবে।

দুর্ভাগ্যবশত আমাদের কোনো একটা বোনের সাথে যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু একটা ঘটনা ঘটে গেল, তখন এর বিচার কার কাছে চাইব আমরা? তখন কিন্তু আমরাই হল প্রশাসনের কাছে বিচার চাইব, প্রশাসনের পদত্যাগ চাইব, বিচারের দাবিতে আন্দোলন করব।’
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ পরাণ হল প্রশাসনের নোটিশটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে লিখেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কেনো শিক্ষার্থীদের ছেলে বা মেয়ে এইভাবে ভাবে? কেন শুধু শিক্ষার্থী হিসেবে ভাবতে পারছে না? আমি চাই, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শিক্ষার্থী হিসেবে ভাবুক। নারী-পুরুষে, হিন্দু-মুসলমানে, পাহাড়ে-সমতলে ইত্যাদিতে ডিভাইড না করে শুধু শিক্ষার্থী ভাবুক।’

পরে সমালোচনার মুখে আজ দুপুরে অন্য আরেকটি নোটিশে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয় হল প্রশাসন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুলাই-৩৬ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক লাভলী নাহার।

তিনি বলেন, ‘তারা সবাই আমাদের সন্তানের মতো। তাদের খেয়াল রাখা আমাদের দায়িত্ব। নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের ছেলে মেয়েদের মতো ওদেরকেও বোঝানোর দায়িত্ব আমাদেরই। এজন্যই তাদেরকে ডাকা হয়েছিল, এখানে অন্য কোনো কারণ নেই। সামনে রাকসু নির্বাচনকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের বিপদ না হয়, এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পূর্ব সতর্কতার জন্য তাদেরকে ডাকতে চেয়েছিলাম।’