নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ ছাত্রী ও আন্তজার্তিক মডেল রাউধা আতিফের (২০) আত্মহত্যার ঘটনাটি তদন্তে মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা এখন রাজশাহীতে অবস্থান করছেন। গতকাল সোমবার তাঁরা বিমানযোগে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে এসে পৌঁছান।
তারা সেখান থেকে রাজশাহী সার্কিট হাউজে গিয়ে অবস্থান নেন। আর আজ থেকেই তাঁরা রাউধা আতিফের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। এ নিয়ে তারা প্রাথমিকভাবে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। মামলাটির মূল তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই রাশেদুল হককে।
মালদ্বীপ পুলিশের জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রিয়াজ ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক আহম্মেদ আলী আলাদা করে তদন্ত করবেন। তবে প্রয়োজনে সহযোগিতা নিবেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের।
তাঁরা সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, রাউধা আতিফের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখতেই তারা রাজশাহীতে এসেছেন। তবে তদন্তের প্রক্রিয়াটি কি হবে-সে সম্পর্কে আর কিছু জানাতে চাননি তাঁরা। পরবর্তিতে জানানো হবে বলেও জানান তাঁরা।

ওই দুই কর্মকর্তা আজ মঙ্গলবার ঘটনাস্থল রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলেও যেতে পারেন। সেইসঙ্গে কলেজের কর্মকর্তাসহ রাউধার সহপাঠি এবং হোস্টেলে অবস্থানকারী রাউধার পাশের রুমমেটদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন বলেও নিশ্চিত করেছেন পুলিশের একাধিক সূত্র।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই রাশেদুল হক বলেন, মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাউধা আত্মহত্যার বিষয়টি তদন্ত করতে এসেছেন। তারা তাঁদের মতো করে তদন্ত করবেন। আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা তাঁদের সহযোগিতা করবো। তবে মূল তদন্ত আমরাই করছি। আমরাই করবো।’
- এদিকে পুলিশের আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাউধা আত্মহত্যার বিষয়টি মানতে পারছেন না তাঁর পরিবারের লোকজন। তাঁরা মনে করছেন, রাউধাকে হত্যা করা হয়েছে। অথবা এখানে বড় ধরনের কিছু ঘটেছে-যাতে করে রাউধা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এ কারণেই তাঁর বাবা মালদ্বীপ সরকারের কাছে ঘটনাটি তদন্তে সহযোগিতা চেয়েছেন। ফলে মালদ্বীপ সরকারের নির্দেশের আন্তজার্তিক মডেল কন্যা রাউধা আতিফের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তে পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা রাজশাহীতে গিয়েছেন।
এর আগে গত শুক্রবার রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ এবং আমিনাথ মুহারমিমাথ দাবি করেছিলেন, তাঁদের মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। রাউধা আত্মহত্যা করতে পারে-এটি তাঁরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না। ফলে রাউধার মৃত্যু’র রহস্য জোট না খোলা পর্যন্ত তাঁর বাবা-মাসহ পরিবারের ৫ সদস্য এখনো রাজশাহীতেই অবস্থান করছেন। অন্য ৬ সদস্য মালদ্বীপে চলে গেছেন। যদিও ময়নাতদন্ত রিপোর্টে রাউধা আত্মহত্যা করেছেন বলেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
শাহ মখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, রাউধার আত্মহত্যার বিষয়টি এখন নগরীর শাহমখদুম থানা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাউধা আতিফের (২০) ঝুলন্ত মৃতদেহ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে ২০৯ নম্বর কক্ষে দেখা যায়। রাউধা ওই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গত বছর জানুয়ারিতে মালদ্বীপ থেকে রাজশাহীতে আসেন ডাক্তারি পড়তে। তিনি আন্তজার্তিক মডেল ছিলেন। ‘ভোগ ইন্ডিয়া’র ২০১৬-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রচ্ছদে রাউধার ছবিও প্রকাশ করে। পরে পুলিশ রাউধার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। গত শনিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে রাউধার লাশ রাজশাহী মহানগরীর হেতেম খাঁ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স/আর









