সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
শরীর সুস্থ রাখার জন্য ড্রাই ফ্রুট অত্যন্ত উপকারী। সঠিকভাবে খেলে এগুলো শরীরকে নানাভাবে উপকার দেয়। আর এদের মধ্যে আখরোট অন্যতম। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওমেগা–৩ ফ্যাটি এসিড।
এটি শুধু দেহ নয়, মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্যও সমানভাবে উপকারী।
সাধারণত অধিকাংশ মানুষ শীতকালে আখরোট খেয়ে থাকেন। তবে অন্যান্য ঋতুতে এটি খাওয়া নিয়ে অনেকের মনে বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, গ্রীষ্মকালে আখরোট খেলে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাবে।

কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া হলে এতে কোনো ক্ষতি নেই, বরং পাওয়া যাবে নানা উপকার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আখরোট খাওয়ার সঠিক উপায় জানা। কিন্তু সুস্থতার জন্য আখরোট খাওয়ার সঠিক উপায় কী? আর আখরোট খেলে আসলে কী কী উপকার পাওয়া যায়? চলুন, জেনে নেওয়া যাক—
দুধের সঙ্গে
পুষ্টিবিদদের মতে, আখরোট সরাসরি খাওয়ার পরিবর্তে দুধে ফুটিয়ে খেলে আরো বেশি পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়। আখরোট দুধে ফুটিয়ে রাতে শোওয়ার আগে হালকা গরম দুধের সঙ্গে খেলে উপকারিতা অনেক বেড়ে যায়।
এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া আখরোট ও দুধ একসঙ্গে খেলে শরীরের কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হয়।
শেক ও স্মুদিতে মিশিয়ে
খাদ্যতালিকায় বিভিন্নভাবে আখরোট অন্তর্ভুক্ত করা যায়। শেক বা স্মুদির সঙ্গে এটি খেলে আরো ভালো হবে। এর জন্য আপনি আখরোটের টুকরো দিয়ে শেক বা স্মুদি সাজিয়ে নিতে পারেন।
পুষ্টিও পাবেন অনেক পরিমাণে, সেইসঙ্গে খাবারটিও সুস্বাদু হবে।
ভেজে খান
আখরোট ভাজা খাওয়া ভালো। এভাবে খেলে শরীরের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়। আখরোটগুলো ভাজার পর মৌরি, ধনে বীজ ও পুদিনা পাতার মতো ঠাণ্ডা ভেষজ দিয়েও খেতে পারেন। চাইলে দইয়ের সঙ্গেও আখরোট মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
ভিজিয়ে খান
দুইটি আখরোটের টুকরো রাতভর পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। সকালে খালি পেটে এটি খান। নিয়মিত ভেজানো আখরোট খেলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। আখরোট খেলে আমাদের শরীরের বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধি পায়, যা অতিরিক্ত চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আখরোট দুধের সঙ্গে সঠিকভাবে খাওয়া হলে এটি কেবল শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে না, বরং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সামগ্রিকভাবে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই মৌসুম নির্বিশেষে নিয়ম মেনে আখরোট খাওয়া যেতে পারে—শুধু খাওয়ার সঠিক পদ্ধতিটি জানা থাকলেই এর সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া সম্ভব।









