সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
ভারত থেকে আমদানির প্রভাবে বাজারে পেঁয়াজের দামের ঝাঁজ কিছুটা কমলেও নতুন করে বেড়েছে কয়েকটি খাদ্যপণ্যের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম, মসুর ডাল, খোলা আটা, মুরগি ও সবজির দাম আরো বেড়েছে। উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের পাত থেকে অনেকটাই উঠে গেছে মাছ ও মাংস। আমিষের চাহিদা পূরণে মূল ভরসা ডিমের দামও বাড়তি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।

গত এক মাসে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকায় উঠেছে। খোলা আটা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সংকটের অজুুহাতে দেশি মসুর ডালের দাম প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সংকটের কারণে মূলত ডিম, মুরগি ও সবজির দাম বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্রিয়তা ধারাবাহিক নয়। ভোক্তারা এতে পণ্যের বাজারে প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছে না। তারা বলছে, বাজারে তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছেন।
এখনই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে অস্থিরতা বাড়বে।
গতকাল রাজধানীর বাজার ঘুরে জানা গেছে, খুচরায় প্রতি কেজি খোলা আটার দাম বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪০ টাকা। দেশি মসুর ডাল বিক্রি করা হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়, যা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়ে আসছিল। বাজারে এক থেকে দেড় মাস ধরে ডিমের দাম বাড়তি। গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম আরো বেড়েছে।
ডজনে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকালের বাজারদরের তথ্যেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা আটা, ডিম, ডাল, মুরগি ও সবজির দাম বাড়ার চিত্র দেখা গেছে।
বাড্ডা বাজারের মুদি দোকানদার ইব্রাহিম খলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আটার বস্তায় প্রায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এতে খোলা আটা এখন ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। দেশি মসুর ডাল দীর্ঘদিন ধরে ১৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন দাম বাড়ায় ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ভারতের পেঁয়াজ আসায় কেজিতে পাঁচ টাকা কমে এখন ৮০ টাকায় দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছি। এখন ডিমের হালি ৫০ টাকা এবং ডজন ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।’
সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রতিটি সবজির দাম বেড়েছে। গোল বেগুন মানভেদে ১২০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ও ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৮০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, টমেটো মানভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। চালকুমড়া প্রতি পিস ৬০ টাকা, লম্বা লাউ প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মহাখালী কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা আবু বক্কর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে সব সবজির দামই বাড়তি। ঢাকার বাইরে থেকে কারওয়ান বাজারে সবজি কম আসছে এখন। যেগুলো আসছে সেগুলোর দাম পাইকারি বাজারেই চড়া। সবজির সরবরাহ না বাড়লে দাম কমবে না।’ মুরগির দাম আরো বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রামপুরা কাঁচাবাজারের মেসার্স জিয়াদ ব্রয়লার হাউসের বিক্রেতা মো. বায়োজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগির দাম দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ছে। এখন প্রতি কেজি ১৮৫ টাকায় উঠেছে। সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা।’
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শাক-সবজি, পেঁয়াজ ও মুরগির দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রয়েছে মৌসুমি প্রভাব। গ্রীষ্মকালীন সবজির উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই কম। বর্ষাকালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অতিসম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে সবজির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। অনেক ক্ষেতে সবজি পচে গেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমেছে। এতে সবজির দাম প্রকারভেদে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে।’









