লাইফ স্টাইল

অতিরিক্ত গরম চা-কফি হতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ, দাবি বিজ্ঞানীদের

নিউজ ডেস্ক২১ আগস্ট ২০২৫৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আমাদের মধ্যে অনেকেই দিন শুরু করেন গরম চা-কফি দিয়ে। চা-কফি ছাড়া সকাল তারা ভাবতেই পারেন না। যদিও সবাই জানেন যে অতিরিক্ত চা-কফি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। তবে আপনার এই অভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি ভয়ংকর সত্য প্রকাশ পেয়েছে।

নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, খুব গরম পানীয় পান করা আপনার শরীরকে মারাত্মক রোগের আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। এটি খাদ্যনালির ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, আপনি যত বেশি গরম ও ঘন ঘন চা বা কফি পান করবেন, তত বেশি এটি আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। নতুন গবেষণাটিতে আরো কী বলা হয়েছে, চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক—

কী বলছে গবেষণা

নতুন এ গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন আট বা তার বেশি কাপ খুব গরম পানীয় (কফি বা চা) পান করেন, তাদের এসোফেজিয়াল স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা (ইএসসিসি) নামক এক ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৫.৬ গুণ বেশি।

কত কাপ চা-কফি পান করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে?

গবেষকরা ইউকে বায়োব্যাংকের ৫ লাখেরও বেশি মানুষের তথ্য নিয়ে স্টাডি করেছেন। এই গবেষণাটি করার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য ছিল যে মানুষ প্রতিদিন কত কাপ গরম পানীয় (চা-কফি) পান করে, তা জানা এবং ক্যান্সারের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী। গবেষণায় দেখা গেছে, পানীয় যত বেশি এবং গরম হবে, ঝুঁকি তত বেশি হবে।

যদি কেউ প্রতিদিন খুব গরম পানীয় (যেমন ফুটন্ত চা বা কফি) পান করে :

৪ কাপ পর্যন্ত পান করলে ঝুঁকি ২.৫ গুণ বেড়ে যায়।

৪ থেকে ৬ কাপ পান করলে ঝুঁকি ৩.৭ গুণ বেড়ে যায়।
৬ থেকে ৮ কাপ পান করলে ঝুঁকি ৪.৮ গুণ বেড়ে যায় এবং যারা ৮ কাপের বেশি পান করেন তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ৫.৬ গুণ বেশি দেখা গেছে।
এমনকি খুব বেশি গরম নয়, এমন পানীয়ও ক্ষতিকারক হতে পারে—

৪ কাপ পর্যন্ত পান করলে ঝুঁকি ১.৬ গুণ বেড়ে যায়।
৪ থেকে ৬ কাপ পান করলে ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়।
৬ থেকে ৮ কাপ পান করলে এই ঝুঁকি ২.৫ গুণ বেড়ে যায় এবং ৮ কাপের বেশি পান করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি ৩ গুণ বেড়ে যায়।

গরম পানীয় কেন বিপজ্জনক

খুব গরম পানীয় পান করা, বিশেষ করে ১৪৯°ফারেনহাইট (৬৫°সেলসিয়াস) এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পানীয়, খাদ্যনালির সূক্ষ্ম আস্তরণ পুড়িয়ে দিতে পারে। বারবার এটি ঘটলে কোষের ক্ষতি করতে পারে, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং টিস্যুগুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, এই দুর্বল টিস্যুগুলো অ্যালকোহল ও তামাকের মতো ক্ষতিকারক পণ্যের প্রতি আরো সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি খাদ্যনালির ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

খাদ্যনালির ক্যান্সার কী

খাদ্যনালির ক্যান্সার হলো এমন একটি ক্যান্সার, যা খাদ্যনালিতে শুরু হয়। এই নলটি আমাদের খাদ্য মুখ থেকে পাকস্থলীতে বহন করে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যান্সার শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এর লক্ষণগুলো সাধারণত দেরিতে দেখা যায়। খাবার গিলতে অসুবিধা, হঠাৎ ওজন হ্রাস, বুকে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া, ক্রমাগত কাশি বা কণ্ঠস্বর কর্কশ হওয়া এর কিছু সাধারণ লক্ষণ।

এই রোগ থেকে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নির্ভর করে কখন এটি শনাক্ত করা হয়, তার ওপর। যদি এটি প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়ে, তবে প্রায় ৪৬% রোগী বেঁচে থাকতে পারেন। তবে যদি এটি চতুর্থ পর্যায়ে ধরা পড়ে, তবে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ৫%।

 

আদর্শ তাপমাত্রা

কফি তৈরির জন্য আদর্শ তাপমাত্রা- ১৯৫-২০৫°ফারেনহাইট
চা তৈরির জন্য- ১৭৫-২১২° ফারেনহাইট
নিরাপদ পানীয়ের তাপমাত্রা- প্রায় ১৩৬° ফারেনহাইট
মানুষ সাধারণত ১২০-১৫৫° ফারেনহাইট তাপমাত্রায় কফি/চা পান করে, যা অনেক বেশি নিরাপদ।
ঝুঁকি কমাতে কী করবেন

চুমুক দেওয়ার আগে আপনার পানীয়টি ঠাণ্ডা হতে দিন (মাত্র ৫ মিনিট তাপমাত্রা ৫০-৫৯° ফারেনহাইট কমিয়ে দিতে পারে)।
আপনি যদি পরীক্ষা করতে চান যে এটি কতটা গরম, তাহলে ছোট ছোট চুমুক দিন।
ধীরে ধীরে পান করুন এবং উপভোগ করুন। গরম পানীয় পান করার জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না।