নিজস্ব প্রতিবেদক:
২৩ মাস পর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব নিতে না নিতেই ফের সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। আজ রোববার বেলা তিনটার দিকে বুলবুল সিটি করপোরেশনে তাঁর কক্ষে বসেন। এর পর পরই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ফ্যাক্সে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের এ আদেশ আসে।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২৩ মাস পর আজ রবিবার নগর ভবনে ফেরেন রাজশাহী নগর বিএনপির সভাপতি পদে থাকা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, ‘মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিরুদ্ধে মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১, রাজশাহীর মামলা নং- ১৩৬/১৫ (বোয়ালিয়া থানার মামলা নং-১৭, ৮ ফেব্রুয়ারি-২০১৫) অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করেছে।’
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ (২০০৯ সালের ৬০নং আইন) এর ১২ এর উপধারা (১)-এ সিটি করপোরেশনের মেয়রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র আদালতের গ্রহীত হলে সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানায়।
এর আগে রোববার সকালে সাময়িক বরখাস্তের দীর্ঘ ২৩ মাস পর আদালতের রায় হাতে নিয়ে নগরভবনে যান বুলবুল। কিন্তু নগর পিতার কক্ষ তালাবদ্ধ। এ নিয়ে নগর ভবন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরে রাসিকের কয়েকজন কর্মকর্তাদের নিয়ে মেয়র ও বিএনপি পন্থি কাউন্সিলররা এসে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় বিএনপির কাউন্সিলরা রাসিকের কর্মকর্তাদের তালা খুলতে বললে তারা অপরগতা জানালে উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তালা ভেঙ্গে নগরপিতার ফটক খোলা হয়। নগরভবনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে তার কক্ষে বসতে না বসতেই ফের সাময়িক বরখাস্তের এ নির্দেশ আসে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ জুন রাসিক নির্বাচনে বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এক লাখ ৩১ হাজার ৫৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। শপথ নেয়ার পর মাত্র ১৪ মাস দায়িত্বে ছিলেন বুলবুল। সরকারবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের দায়ের করা পুলিশ হত্যা, বিস্ফোরক ও নাশকতার অন্তত ১৭টি মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন তিনি। বর্তমানে বুলবুল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছাড়াও রাজশাহী নগর বিএনপির সভাপতি।
স/শ









