নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল সাময়িক বরখাস্তের দীর্ঘ ২৩ মাস পর আদালতের রায় হাতে নিয়ে নগরভবনে গেলেন তিনি। কিন্ত নগর পিতার কক্ষ তালাবদ্ধ। এর ফলে তিনি পাশের একটি কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ নিয়ে নগর ভবন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
পরে রাসিকের কয়েকজন কর্মকর্তাদের নিয়ে মেয়র ও বিএনপি পন্থি কাউন্সিলররা এসে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় বিএনপির কাউন্সিলরা রাসিকের কর্মকর্তাদের তালা খুলতে বললে তারা অপরগতা জানালে উত্তেজনা দেখা দেয়।

মেয়র বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৭ মার্চ মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি নগর ভবনে চিঠি পৌঁছেছে। কিন্তু তারা বলেন কোনো চিঠি পাননি। আমি সিটি করপোরেশনের বৈধ মেয়র। উচ্চ আদালতের লিভ টু আপিলের রায়ের পর আমার ক্ষমতা গ্রহণে কোনো বাধা নেই। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি মন্ত্রণালয় থেকে নগর ভবনে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম ও নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শরিফ উদ্দিন নগর ভবনে নেই।

তিনি আরো সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের রায় হাতে নিয়েই তিনি দায়িত্ব নিতে এসেছেন। কিন্তু এসে দেখেন তার কক্ষ তালাবদ্ধ। তবে তিনি যেহেতু ভোটে নির্বাচিত এবং আদালতের রায়ে দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন, সেহেতু লিখিতভাবে কোনো আনুষ্ঠানিকতার দরকার নেই। তিনি এমনিতেই মেয়র।
এর আগে রবিবার সকাল ১০টার পর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগরভবনে আসেন। নগরভবনে ঢুকে মেয়র বুলবুল তার কক্ষের কাছে যান। এ সময় কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় তিনি পাশেই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে বসেন। এ সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শরীফ উদ্দিন উপস্থিত থাকলেও তিনি মেয়রের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে কোনো উদ্যোগ নেননি। পরে মেয়র বুলবুল গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। 
তবে নগরভবনে মেয়র বুলবুল দু’দিন আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি সংবাদ সম্মেলন করবেন। রবিবার বেলা ১১টায় সেটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নগরভবনে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দেখে মেয়র বুলবুল তার সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ৭ মে সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালের ১০ মার্চ উচ্চ আদালত তার বরখাস্ত আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
স/আ









