সিজস্ব প্রতিবেদক: ধোঁয়াসা কাটেনি রাউধা আতিফের আত্মহত্যার রহস্য নিয়ে। ফলে আত্মহত্যার নেপথ্যের কারণ নিয়ে এখেনা অন্ধকারে পুলিশ। কেউ বলছেন পারবািরক কারণে, কেউ বলছেন ব্যক্তিগত কারণে, আবার কেউ বলছেন মডেল রাউধা হয়তো রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না-তাই শেষ পর্যন্ত নিজেকে্ই নিজে শেষ করে দেন আন্তজার্তিক মডেল তারকা রাউধা। কিন্তু এসবই এখন কেবলই ধারণা প্রসুত বলেই মনে হচ্ছে। কারণ পুলিশ এখন পর্যন্ত আন্তজার্তিক মডেল কন্যা রাউধার আত্মহত্যার পেছনের কোনো কারণ খুঁজে পাইনি। ফলে ঘটনার ৪দিন পেরুলেও এখনো ধোঁয়াসাই পুলিশ।
- তবে এখন রাউধার মৃত্যুর পেছনে তার পারিবারিক কারণই বেশি প্রাধন্য পাচ্ছে। সে কারণেই রাউধার লাশ শেষ পর্যন্ত হয়তো মালদ্বীপে নেওয়া হয়নি। মালদ্বীপ থেকে রাজশাহী এসেছিলেন চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার জন্য। মানুষের সেবা করতে চেয়েছিলেন জীবনভর। কাল শনিবার সেই রাজশাহীতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ‘নীল চোখের’ মডেল কন্যা রাউধা আথিফ। চোখের জলে সন্তানকে বিদায় দিলেন মা-বাবা। রাউধার জন্য দোয়া চাইলেন সবার কাছে। রাউধার শেষবিদায়ের বেলায় তাঁর সহপাঠীরাও কান্নায় ভেড়ে পড়েন। এ সময় রাজশাহীর হেতেম খাঁ কবরস্থানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে, মা-বাবার মধ্যে বোঝাপড়া না হওয়ায় রাউধার লাশ মালদ্বীপে নেওয়া হবে নাকি রাজশাহীতেই দাফন করা হবে, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে টানাপড়েন চলেছে। এ কারণে একেকবার একেক রকম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন রাউধার মা-বাবা। কখনো বলেছেন লাশ মালদ্বীপে নেবেন এবং এর জন্য সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন। আবার কখনো বলেছেন লাশ রাজশাহীতেই দাফন করবেন। আর এ টানাপড়েনের কারণে শুক্রবার দুপুরেই লাশের ময়নাতদন্ত হলেও শনিবার দুপুর হয়ে যায় দাফন সম্পন্ন হতে।
পুলিশ ও রাউধার সহপাঠীরা নিশ্চিত করেছেন, রাউধার মা আমিনাথ মুহারমিমাথ থাকেন মালদ্বীপে। আর বাবা ও বড় ভাই হাসান আতিফ থাকেন ভারতে। বাবা চিকিৎসক পেশায় নিয়োজিত এবং ভাই হাসান আতিফ পড়াশোনা করছেন। পারিবারিক কলহের কারণেই রাউধার মা-বাবা আলাদা বসবাস করেন। রাউধা বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য গত ৩০ অক্টোবর ভারতেও গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আসার পর তিনি মানসিকভাবে আরো বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে বিষয়টি সহজে কাউকে বুঝতে দিতেন না তিনি। এমনকি অধিকাংশ সময় নিজের কক্ষে একাই কাটাতেন রাউধা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাউধার কয়েকজন সহপাঠী জানান, তাঁর (রাউধা) মা-বাবা তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে অনেক কিছুই লুকাচ্ছেন। আর এসবই হয়তো রাউধার আত্মহত্যার প্রধান কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘গলার বাইরে লাশের শরীরে কোনো আঘাতে চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে গরায় ফাঁস দিয়ে আত্হত্যার কারণে শুধু সেখানে গোলাকার আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি। তবে শরীরে কোনো বিষাক্ত কিছু ছিল কিনা, সেটি ভিসেরা রিপোর্ট আসা পর্যন্ত বলা যাবে না। ভিসেরা রিপোর্টের জন্য লাশের পিত্তথলী এবং কিডনীর নমূনাংশ ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট এলে আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে আরো পরিস্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তারপরেও সার্বিকভাবে মনে হচ্ছে গলায় ফাঁস দিয়েই আত্মহত্যা করেছেন রাউধা। আমরা এমনই রিপোর্ট দিয়েছি পুলিশকে।’
পুলিশ সূত্র মতে, রাউধার মৃত্যুর খবর শুনে মালদ্বীপ থেকে মোট ১১ সদেস্যের একটি দল রাজশাহীতে আসেন। তাঁদের মধ্যে ১০-১২ বছরের একটি শিশু রয়েছে। অন্যদের মধ্যে ছিলেন রওউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ, মা আমিনাথ মুহারমিমাথ (আয়েশা রাশিদা), রাউধার ভাই হাসান আতিফ, নিকটাত্মীয় আইফা ফাতিমা, মোহাম্মদ নাজিম, রিফকা, মারিয়াম, শফিক, শাহীন, রায়হান ও নাসফা। তবে ১০-১২ বছরের শিশুটিও রাউধার ভাই বলেও দাবি করেছেন কেউ কেউ। যদিও সঙ্গে আসা অন্যদের সম্পর্কে আর কিছুই বিস্তারিত জানাননি রাউধার বাবা-মা ব্য অন্যরাও।
- এদিকে পুলিশ ও রাউধার সহপাঠিরা নিশ্চিত করেছেন, রাউধার মা আমিনাথ মুহারমিমাথ থাকেন মালদ্বীপে। আর বাবা ও বড় ভাই হাসান আতিফ থাকেন ইন্ডিয়ায়। বাবা চিকিৎসক পেমায় নিয়োজিত এবং ভাই হাসান আতিফ পড়া-শোনা করছেন। পারিবারিক কলোহের কারণেই রাউধার বাবা-মা আলাদা বসবাস করেন বলেও তারা নিশ্চিত করেছেন। রাউধা তার বাবা সঙ্গে দেখা করার জন্য গত ৩০ অক্টোর ইন্ডিয়াতেও গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আসার পরে রাউধা আরো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে সহজে বিষয়টি কাউকে কিছু তিনি বুঝতে দিতে না। এমনকি অধিকাংশ সময় তাঁর কক্ষে একাই কাটাতেন রাউধা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাউধার কয়েকজন সহপাঠি জানান, তার (রাউধা) বাবা-মা তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে অনেক কিছুই লুকাচ্ছেন। আর এসবই হয়তো রাউধার আত্মহত্যার প্রধান কারণ হতে পারে। তবে তার পরেও রাউধা কলেজের হোস্টেলের কক্ষ থেকে বাইরে বের হলেই অনেক হাসি-খুশি থাকতো। কাউকে কিছু বুঝতে দিতেন না।
পুলিশের আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাবা-মায়ের মধ্যে বোঝা-পড়া না হওয়ায় রাউধার লাশ মালদ্বীপে নেওয়া হবে নাকি রাজশাহীতেই দাফন করা হবে-তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে টানা-পোড়েন চলেছে। এ কারণে একেকবার একেক রকম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন রাউধার বাবা-মা। কখনো বলেছেন লাশ মালদ্বীপে নিবেন। এর জন্য তারা সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন। আবার কখনো বলেছেন, লাশ রাজশাহীতেই দাফন করবেন। আর এ টানা-পোড়নের কারণেই শুক্রবার দুপুরেই লাশের ময়নাতদন্ত হলেও গতকাল শনিবার দুপুর হয়ে যায় দাফন সম্পন্ন হতে।
- এদিকে আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, মডেল হওয়ার কারণে রাউধা ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের পরিবেশ হয়তো নিজেকে মাািনয়ে নিতে পারছিলেন না। এ কারণেই হয়তো তিনি এ পথ বেছে নেন। আবার কেউ বলছেন, ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্কের জের ধরেও হয়তো রাউধা আত্মহত্যা করতে পারেন। কিন্তু এসবই এখন কেবলই ধারণা প্রসুত বলেই মনে হচ্ছে। কারণ পুলিশ এখন পর্যন্ত আন্তজার্তিক মডেল কন্যা রাউধার আত্মহত্যার পেছনের কোনো কারণ খুঁজে পাইনি। ফলে ঘটনার ৪দিন পেরুলেও এখনো ধোঁয়াসাই পুলিশ।
তবে রাউধার বাবা-মা এসব নিয়ে মিডিয়ার সামনে মুখ খোলেননি। এমনকি রাউধা আত্মহত্যা করতে পারে-সেটিও তারা বিশ্বাস করছেন না। আত্মহত্যার মতো কোনো কারণও খুঁজে পাচ্ছেন না বলে কাছে গত শুক্রবার দাবি করেন।
- জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আব্দুর রশিদ বলেন, ‘মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে-এটা সঠিক। কিন্তু কি কারণে আত্মহত্যা করেছে-তা আমরা এখনো জানতে পারিনি। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। তবে মুনেছি তারা বাবা-মা পৃথক থাকেন। কিন্তু কি কারণে রাউধা আত্মহত্যা করতে পারে-তার সম্ভাব্য সবদিক আমরা খতিয়ে দেখবো।’
এক প্রশ্নের জবাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘কলেজে তার চলাফেরা থেকে শুরু করে পারিবারিক বিষয়গুলো এমনকি তার সঙ্গে কারো সম্পর্ক ছিল কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাউধা আতিফের (২০) ঝুলন্ত মৃতদেহ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে ২০৯ নম্বর কক্ষে দেখা যায়। এসময় তার সহপাঠিরা দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে দ্রুত রাউধাকে নিচে নামান। তবে তৎক্ষণে তিনি মারা যান। রাউধা ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গত বছর জানুয়ারিতে মালদ্বীপ থেকে রাজশাহীতে আসেন ডাক্তারি পড়তে। তার বাড়ি মালদ্বীপে এবং তিনি আন্তজার্তিক মডেল ছিলেন। ‘ভোগ ইন্ডিয়া’র ২০১৬-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রচ্ছদে রাউধার ছবিও প্রকাশ করে। এতে রাউধা উল্লেখ করেন, তাঁর স্বপ্ন মডেল হওয়া নয়, ডাক্তার হওয়া। এ কারণেই রাউধা মালদ্বীপ থেকে গত বছরের জানুয়ারিতে রাজশাহীতে আসেন ডাক্তারি পড়তে।
স/আর
’









