রাজশাহী

পবায় চার মৃতদেহ উদ্ধার: দুটি মামলা দায়ের, পৃথক দুই স্থানে দাফন

নিউজ ডেস্ক১৭ আগস্ট ২০২৫৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর পবায় চারটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলা হয়েছে অপমৃত্যুর ঘটনায়, আরেকটি হয়েছে হত্যার ঘটনায়। এছাড়াও গতকাল মৃতদেহ চারটির ময়নাতদন্ত শেষে পৃথক দুটি স্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে আত্মহত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত মিনারুল (৩৫) এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার তাঁর বড় ছেলে মাহিনের মরদেহ (১৪) দাফন করা হয়েছে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে। আর হত্যাকাণ্ডের শিকার মিনারুলের স্ত্রী মনিরা খাতুনের (৩০) মরদেহ দাফন করা হয়েছে তাঁর বাবার বাড়ি রাজশাহী নগরীর টিকাপাড়া এলাকায়। একইসঙ্গে এখানে দাফন করা হয়েছে ছোট মেয়ে মিথিলার মরদেহটিও (৪)।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক বলেন, ওই ঘটনায় দুইটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি অপমৃত্যু এবং অপরটি হত্যা মামলা। অপমৃত্যু মামলার বাদী হয়েছেন মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী। আর হত্যা মামলার বাদী হয়েছেন মিনারুলের শাশুড়ি শিউলি বেগম। তবে এসব মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি আরও জানান, শুক্রবার দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে দুটি লাশ নিহত মনিরার পরিবারের সদস্যরা মিনারুলের পরিবারের সদস্যদের দেননি। মনিরা এবং তাঁর শিশু কন্যার মরদেহ দুটি নগরীর টিকাপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে সন্ধ্যায়।

অনদিকে মিনারুল এবং তাঁর বড় ছেলে মাহিনের মরদেহ দাফন করা হয়েছে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে। এ দুটিও মরদেহও দাফন করা হয়েছে বিকেল ৫টার পরে।
জানতে চাইলে মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী বলেন, ‘আমরা তো কোনো অপরাধ করেনি। আমরা চারটি লাশই একসাথে দাফন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারলাম না। ছেলে বউয়ের পরিবারের লোকজন দুটি লাশ তারা নিজেরা দাফন করার জন্য রেখে দিয়েছি। তাই আমার ছেলে বউ আর নাতনিকে একসঙ্গে দাফন করতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চারটি কবরস্থান খোঁড়ার কাজ শুরু করেছিলাম। এরই মধ্যে তিনটি কবরস্থানের খোঁড়ার কাজ শেষ হয়েছিল। কিন্তু লাশ দুটি পাওয়ায় একটি কবরস্থান পুরে ভরাট করে দিতে হয়েছে।’

নিহত মনিরার মা শিউলি বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েসহ দুই নাতি-নাতনিকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেছে জামাই মিনারুল। আমরা তার সঙ্গে আমার মেয়েকে দাফন করতে পারি না। শেষ স্মৃতি হিসেবে মেয়ের মরদেহ আর নাতনী মিথিলার মরদেহ আমাদের এলাকায় দাফন করেছি।’

প্রসঙ্গত, ঋণের দায়ে ও খাবারের অভাবে রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিকড় গ্রামের একটি বাড়ি থেকে গত শনিবার সকালে চারটি মৃতদেহ ও দুই পাতার একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি মৃতদেহ ছিল ঝুলন্ত। সেটি ছিল মিনারুলের। বাকি তিনটি মৃতদেহ বিছানায় পড়েছিল। দুই পাতার চিরকুটে লেখা ছিল ‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।’ লেখাটি মিনারুলেরই ছিল বলে পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা। অভাবের কারণে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন বলেও ধারনা করা হচ্ছে।

স.আর