রাজশাহী

ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সুরক্ষার দাবি এইচআরডিসির

নিউজ ডেস্ক১৬ আগস্ট ২০২৫২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বামনশিকড় গ্রামে একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করছে হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি)। সংস্থাটি ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে।

শনিবার (১৬ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এইচআরডিসির সেক্রেটারি জেনারেল মাহবুল হক বলেন, ওই ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার, বিশেষ করে বেঁচে থাকার অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার নির্মম প্রমাণ।

সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে এই অধিকারগুলো রক্ষার অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

তাই দারিদ্র্য ও ঋণের ফাঁদে পড়ে যেন আর কোনো পরিবার প্রাণ না হারায়, সেটিই এখন বড় মানবাধিকার চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাষ্ট্রকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। 

এইচআরডিসির পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৫ দফা দাবিতে বলা হয়, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দ্রুত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

ঋণ ও কিস্তি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। দরিদ্র ও ঋণগ্রস্ত পরিবারগুলোকে রক্ষায় কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে। 

উল্লেখ্য, ‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।

এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছি না। তাই আমরা বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম, সেই ভালো হলো। কারো কাছে কিছু চাইতে হবে না। আমার জন্য কাউকে মানুষের কাছে ছোট হতে হবে না।’ এই মর্মস্পর্শী কথাগুলো একটি চিরকুটে লিখে গত শুক্রবার আত্মহত্যা করেন মিনারুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী মনিরা খাতুন (২৮), ছেলে মাহিম (১৪) এবং মেয়ে মিথিলা (৩)।
 

চরম আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ ও সামাজিক হতাশা এই ট্র্যাজেডির পেছনে প্রধান কারণ হতে পারে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।