স্বাস্থ্য

বংশে হাইপ্রেসারের রোগী থাকলে ৩০ পেরোলেই মানতে হবে যে নিয়ম

নিউজ ডেস্ক১৪ আগস্ট ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

হাইপ্রেসারের সমস্যা এখন প্রায় সব পরিবারেই দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন এই রোগ শুধু বয়সকালেই হয়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। তাদের মতে, আজকাল শুধু বয়স্করাই নয়, এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তরুণ-তরুণীরাও।

অথচ বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা নেই বললেই চলে। এমনকি অনেকে এও জানেন না যে এই হাইপ্রেসার বংশগতির মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।
আপনার পরিবারে বয়স্ক সদস্যদের মধ্যে যদি হাইপ্রেসারের ইতিহাস থাকে, তবে আপনারও এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কিছু জিন এই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আপনার মা-বাবা, দাদা-দাদির যদি হাইপ্রেসার থাকে, তবে আপনারও এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া অনেক সময় দেখা যায় একটি পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের জীবনযাপন একই রকমের হয়। সেই কারণেও অনেক সময় একই পরিবারে একাধিক সদস্যের এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পরিবারের সদস্যদের খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামের অভ্যাস এবং অন্যান্য জীবনযাত্রার কারণগুলোও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বংশে এই রোগের ইতিহাস থাকলে ৩০ পেরোলেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। চলুন, জেনে নেওয়া যাক—
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস : সুস্থ থাকতে হলে সবার আগে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। বাড়াতে হবে ফল, শাক-সবজি, শস্য ও কম চর্বিযুক্ত খাবারের পরিমাণ। লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। একই সঙ্গে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার কম খেতে হবে।

এতে দেহের বিপাক ক্রিয়া ভালো থাকবে। অতিরিক্ত লবণ খেলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ বাড়ে। ফলস্বরূপ বাড়ে রক্তচাপ।
নিয়মিত ব্যায়াম : প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম করতে হবে। জিমে না গিয়েও ব্যায়াম করা যেতে পারে। এর জন্য নিছক দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানোর মতো দৈনন্দিন কাজেও উপকার মিলতে পারে। সপ্তাহে অন্তত ২ দিন একটু কঠোর শরীরচর্চা করতে পারলে ভালো।

ওজন নিয়ন্ত্রণ : বডি পজিটিভিটি যেমন দরকার, তেমনই দরকার নিজের ওজন নিয়ে সতর্ক থাকা। অতিরিক্ত ওজন একাধিক রোগ ডেকে আনে। উচ্চ রক্তচাপ তার মধ্যে অন্যতম। তাই বাড়তি ওজন কমাতেই হবে।

ধূমপান ও অ্যালকোহল ত্যাগ : ধূমপান ও অ্যালকোহল বহু লাইফস্টাইল রোগের শিকড়। একইভাবে এগুলো উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই, এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ : মানসিক চাপ কমানোর জন্য যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা অন্যান্য শিথিলকরণ কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। অনিদ্রা রক্তচাপের সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা : পরিবারের সদস্যদের উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস সম্পর্কে চিকিৎসককে জানিয়ে রাখুন। সম্ভব হলে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করাতে হবে। যাতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ সতর্ক হওয়া যায়।