অর্থ ও বাণিজ্য

কে কখন রিটার্ন দাখিল করবেন

নিউজ ডেস্ক১৩ আগস্ট ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট একজন করদাতার বার্ষিক আয়, ব্যয় এবং সম্পদের তথ্যাবলী নির্ধারিত ফরমে উপস্থাপন করার মাধ্যম হচ্ছে রিটার্ন। আয়কর আইন অনুযায়ী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার রিটার্ন সকল প্রকার আয়ের বিবরণী, বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত সকল প্রকার পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী এবং, ক্ষেত্রমত, জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার ব্যয়ের বিবরণী সংবলিত হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

রিটার্ন দাখিলের সময়

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাকে রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ (আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী নভেম্বর মাসের ত্রিশ তম দিন) এর মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ এর মধ্যে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে আয়কর আইনের ধারা ১৭৩ মোতাবেক কর পরিশোধ করতে হবে। তবে, কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা কর্তৃক রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখের পূর্বে দাখিলকৃত লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে অনিবার্য কারণ বিবেচনায় কর কমিশনার কর্তৃক রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ হতে ৯০ দিন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করতে পারবেন।
রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ পরবর্তীকালে রিটার্ন দাখিল

রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ পরবর্তীকালে রিটার্ন দাখিল করা যাবে কি? হ্যাঁ। যাবে।

এক্ষেত্রে আয়কর আইনের ধারা ১৭৪ মোতাবেক কর পরিশোধ করতে হবে।
রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতি

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাগণ রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ এর পর থেকে সংশ্লিষ্ট করবর্ষ এর ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত যখনই রিটার্ন দাখিল করুন না কেন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ পরবর্তীকালেও স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করা যাবে কি?

হ্যাঁ। তবে, রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ সংশ্লিষ্ট করবর্ষ (৩০ জুন তারিখে সমাপ্য) অতিক্রান্ত হওয়ার পরে স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করা যাবে না।

এক্ষেত্রে, পরবর্তী অর্থবছর (পরবর্তী ১ জুলাই হতে আরদ্ধ) হতে সাধারণ পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
‘রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ’ কী?

(ক) স্বাভাবিক ব্যক্তি (individual) ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতার ক্ষেত্রে, আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী নভেম্বর মাসের ৩০ (ত্রিশ) তম দিন;

(খ) স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ব্যতীত অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে, আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী নবম মাসের ১৫ (পনেরো) তম দিন;

(গ) পূর্বে কখনোই রিটার্ন দাখিল করেন নাই এরূপ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে আয়বর্ষ শেষ হবার পরবর্তী ৩০ জুন তারিখ;

(ঘ) বিদেশে অবস্থানরত কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে, তার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের দিন হতে ৯০ (নব্বই) তম দিন, যদি উক্তরূপ ব্যক্তি- (অ) উচ্চ শিক্ষার জন্য ছুটিতে অথবা চাকরির জন্য প্রেষণে বা লিয়েনে নিযুক্ত হয়ে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করেন; বা (আ) অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে বৈধ ভিসা এবং পারমিটধারী হয়ে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করেন;

(ঙ) কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা কর্তৃক রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখের পূর্বে দাখিলকৃত লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে অনিবার্য কারণ বিবেচনায় কর কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত তারিখ যা রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখের দিন হতে ৯০ (নব্বই) দিনের বেশি হবে না;

(চ) রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ যদি সরকারি ছুটির দিন হয়, তা হলে উক্ত দিনের অব্যবহিত পরবর্তী কর্মদিবস।

রিটার্ন কোথায় দাখিল করতে হয়

টিআইএন সনদে উল্লেখিত অধিক্ষেত্র বা সার্কেল অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল করতে হবে। রিটার্ন দাখিলের সময় করদাতা বিদেশে অবস্থান করলে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও রিটার্ন দাখিল করা যায়। তাছাড়া, https://etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অনলাইনেও রিটার্ন দাখিল করার সুযোগ রয়েছে।

রিটার্ন দাখিল না করলে কী হয়

নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন-

ক। ধারা ২৬৬ অনুসারে জরিমানা;

খ। ১৭৪ ধারা অনুসারে কর অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকোচন;

গ। মাসিক ২% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ;

ঘ। ইউটিলিটি সার্ভিসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া;

ঙ। বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তিতে জটিলতা ইত্যাদি।

আয়কর নির্দেশিকা ২০২৫-২০২৬ থেকে