নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ সকাল ১০.৩০ মিনিট। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪০ শয্যা আইসিইউতে মেগা রাউন্ড চলছে। সাপে কামড়ানো একটা রোগীর জন্য মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে ভর্তির অনুরোধ আসলো। বাড়ী মহাদেবপুর, নওগাঁ। বয়স মাত্র ২০ বছর। রোগী যখন আইসিইউতে পৌছালো, শ্বাস প্রশ্বাস নেই। হৃদপিণ্ড ধুঁকে ধুঁকে চলছে। ট্রলিতেই আইসিইউ কনসালটেন্ট শ্বাসনালীতে নল দিতে বাধ্য হলো। তারপর লাইফ সাপোর্টে দেওয়া হলো।
গত ০১ জুন ২০২৫ থেকে আজ ০৬/০৮/ ২০২৫ পর্যন্ত মোট ৩৩ জন শুধু সাপে কামড়ানো রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে সেবা দিতে হলো। প্রায় সবাই এরকম ভয়াবহ অবস্থাতেই আইসিইউতে ভর্তি হয়েছে। কারন, অধিকাংশ সাপ কামড়িয়েছিল ঘরের মধ্যে। প্রতি বছরের বর্ষার সময় সাপে কামড়ানো রোগী ভর্তি হয়, কিন্তু এ বছরের মতো ( গত ১৪ বছরের মধ্যে) আইসিইউতে এত রোগী ভর্তি হয়নি। এসব রোগীর মধ্যে রাজশাহী জেলারই ১৫ জন।

এরপরই ১১ টা রোগী রাজশাহীর পাশ্ববর্তী নওগাঁ জেলার। চাপাই নবাবগঞ্জ, নাটোর, ঝিনাইদহ জেলা থেকেও রাজশাহীতে রোগী পাঠানো হয়েছে।
২০২৫ সালে এসেও আমাদের দেশের জেলা হাসপাতাল গুলো অন্তত সাপে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা কেন থাকছে না, এটা ঐ এলাকার জনগন সরকারের কাছে জোর দাবি জানাতেই পারে।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কৃপায় ৩৩ জন রোগীর মধ্যে একজন ছাড়া সবাই বেচে গেছে। অথচ সময়মত ঐ রোগীও আইসিইউ সুবিধা পেলে সেটাও হয়তোবা বেচে যেতে পারতো।
অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সাপ তার বাসস্থান ও খাবার হারিয়ে ফেলেছে। তাই, মানুষের ঘরে খাবারের সন্ধানে এসে পড়েছে। আমার ধারনা সেটাই, তবে প্রানীবিদ বন্ধু গন এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন।
আমাদের নিজের এবং আত্মীয় স্বজনদের সাপে কামড়ানো থেকে রক্ষা পেতে সচেতন হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সাপে কামড়ালে অতিদ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতেই হবে। ওঝা কবিরাজের কাছে রোগী নেওয়া হলে এবং বিষধর সাপে কামড়ানো রোগী হলে বাঁচার কোন সম্ভাবনাই নেই। নিজ জেলাগুলোতে সাপে কামড়ানো রোগীর জন্য হলেও লাইফ সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যাতে দ্রুত চালু হয় সেটার দাবি জানাতেই থাকি।









