ধর্ম

অর্থনৈতিক নৈতিকতা শিক্ষায় ইসলামে

নিউজ ডেস্ক৬ আগস্ট ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

একজম মুসলিমের প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সেই ধারায় মুসলিম সমাজে অর্থনীতির ক্ষেত্রেও নৈতিকতার মজবুত ভিত্তি অপরিহার্য। ইসলাম এই নৈতিকতাকে হালাল ও হারামের সুস্পষ্ট সীমানায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ সম্পদ অর্জন করা, ভোগ ও বণ্টন করার প্রতিটি পর্যায়ে মুসলিম সমাজকে এমন এক শৃঙ্খলায় আবদ্ধ করা হয়েছে; যা ন্যায়, সততা ও আল্লাহভীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।

মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে ঘোষণা করেছেন:

“وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا”

‘আল্লাহ বেচাকেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।’ (সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭৫)

এ আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যকে স্বীকৃতি দিলেও তার চরিত্রকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। হালালকে গ্রহণ করা ও হারামকে বর্জন করা শুধু ধর্মীয় কর্তব্য নয়; বরং তা অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের অন্যতম শর্ত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

طَلَبُ الْحَلَالِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ

‘হালাল উপার্জন করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ।

’ (সুনান আল-বাইহাকি, শু’আবুল ঈমান, হাদিস: ৪৪৩০, এই হাদিসটিকে গত শতাব্দির প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আলবানিও হাসান বলেছেন)
আবার সহিহ মুসলিমে এসেছে,

يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ

‘এক ব্যক্তি দীর্ঘ সফরে ধূলিধূসরিত চুল এলোমেলো অবস্থায় আল্লাহকে ডাকছে: ‘হে আমার রব! হে আমার রব!’ অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম, এবং হারাম দ্বারা তার দেহ গঠিত। তাহলে কীভাবে তার দোয়া কবুল হবে?’ (সহিহ মুসলিম, কিতাবুল যাকাত, হাদিস: ১০১৫)

মুসলিম সমাজের প্রতিটি সদ্যস্য উপার্জনের প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে হালাল উপার্জনের প্রতিই যত্নবান হবেন এটাই বিধিবদ্ধ নিয়ম। এ ছাড়া হালাল উপার্জন তাকওয়ারও অংশ। এটি শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়; বরং সামাজিক স্থিতি ও আস্থারও ভিত্তি।

হালাল লেনদেন সমাজ থেকে প্রতারণা, ঘুষ, সুদ ও শোষণ বন্ধ করে। আর সমাজে সমতা ও সহযোগিতা সৃষ্টি করে। বিপরীতে; হারাম লেনদেন সমাজে বৈষম্য, অবিশ্বাস ও দুর্নীতি জন্ম দেয়।
আজকের বিশ্বায়নের যুগে হালাল-হারামের এই সীমারেখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, আধুনিক অর্থনীতি বহুমাত্রিক জটিলতায় ভরা।

সুদভিত্তিক ব্যাংকিং, জুয়া ও অনলাইন বেটিং, শেয়ারবাজারে অনৈতিক বিনিয়োগ, মিথ্যা বিজ্ঞাপন, পণ্যে ভেজাল ইত্যাদি এখন প্রায় স্বাভাবিক রূপ নিয়েছে। অনেক সময় মুসলমানরা নিজেরাও জানে না যে, তারা হারাম লেনদেনে জড়িয়ে যাচ্ছে।
হারাম থেকে সতর্ক করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

كُلُّ جَسَدٍ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِ

‘যে দেহ হারাম দ্বারা গঠিত, আগুনই তার জন্য অধিক উপযুক্ত।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ১৪২১৮, হাদিসটি সহিহ)

অতএব মুসলিম সমাজকে হালাল উপার্জনের ব্যাপারে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। যেনো উপার্জন, খরচ ও বিনিয়োগের প্রতিটি ধাপে হালাল-হারামের সীমারেখা অটুট থাকে। কারণ, অর্থনীতি শুধু টাকার হিসাব নয়, বরং তা ঈমান, নৈতিকতা ও আখিরাতের সাফল্যের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

মহান আল্লাহ আমাদের হালাল ও হারামের সীমারেখা অটুট রেখে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক
saifpas352@gmail.com