সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা হুজুরাত, আয়াত : ৭-৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّ فِیۡكُمۡ رَسُوۡلَ اللّٰهِ ؕ لَوۡ یُطِیۡعُكُمۡ فِیۡ كَثِیۡرٍ مِّنَ الۡاَمۡرِ لَعَنِتُّمۡ وَ لٰكِنَّ اللّٰهَ حَبَّبَ اِلَیۡكُمُ الۡاِیۡمَانَ وَ زَیَّنَهٗ فِیۡ قُلُوۡبِكُمۡ وَ كَرَّهَ اِلَیۡكُمُ الۡكُفۡرَ وَ الۡفُسُوۡقَ وَ الۡعِصۡیَانَ ؕ اُولٰٓئِكَ هُمُ الرّٰشِدُوۡنَ ۙ﴿۷﴾
فَضۡلًا مِّنَ اللّٰهِ وَ نِعۡمَۃً ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیۡمٌ حَكِیۡمٌ ﴿۸﴾
সরল অনুবাদ
(৭) তোমরা জেনে রেখো যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসূল রয়েছেন; তিনি বহু বিষয়ে তোমাদের কথা শুনলে তোমরাই কষ্ট পাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমান (বিশ্বাস)কে প্রিয় করেছেন এবং ওকে তোমাদের হৃদয়ে সুশোভিত করেছেন। আর কুফরী (অবিশ্বাস), পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তোমাদের নিকট অপ্রিয় করেছেন। তারাই সৎপথ অবলম্বনকারী।
(৮) আল্লাহর দান ও অনুগ্রহ; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
৭ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তাঁদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবস্থান করছেন, যিনি কেবল তাদের কল্যাণ ও হেদায়াত কামনায় কাজ করেন। তাই, তাঁর সিদ্ধান্ত ও হুকুমের উপর সন্দেহ বা আপত্তি করা উচিত নয়। যদি তিনি সব বিষয়ে তাদের পরামর্শ বা মতামত অনুসরণ করতেন, তবে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জন্য ক্ষতি বা কষ্ট হতো, কারণ মানুষের জ্ঞান ও বিচক্ষণতা সীমিত।
তবে আল্লাহ তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ করে তাদের অন্তরে ঈমানকে প্রিয় ও সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছেন, যেন তা তাদের প্রকৃতির অংশ হয়ে যায়। একই সঙ্গে কুফরি, পাপাচার ও বিদ্রোহী আচরণকে ঘৃণিত করে দিয়েছেন, যাতে তারা এ কাজগুলো থেকে দূরে থাকে। এ বৈশিষ্ট্যগুলো যাদের মধ্যে রয়েছে, তাদেরকেই সত্যিকার অর্থে সৎপথে থাকা মানুষ বলা যায়।
৮ নং আয়াতে বলা হচ্ছে এই ঈমান, উত্তম নীতি ও নৈতিকতা; সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে; এটা কেবল মানবীয় চেষ্টার ফসল নয়, বরং আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহের ফল।
মূলত এখানে ৭ নং আয়াতে বলা আসহাবে রাসুলের উত্তম গুণাবলির দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে যে, এগুলো কেবলই আল্লাহর দয়া আর অনুগ্রহে সম্ভব হয়েছে।









