সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
অন্যায়-অত্যাচার, বৈষম্য ইসলামের আদর্শ নয়। সাম্য-শান্তি প্রতিষ্ঠা করা মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনের বিঘোষিত নীতি ‘লা তাজলিমুনা ওলা তুজলামুন’, অর্থাৎ ‘অন্যের ওপর অত্যাচার কোরো না, তোমাদের ওপরও অত্যাচার করা হবে না।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৭৯)

সুরা আজ-জারিয়াতের ১৯ নম্বর আয়াতে ইসলামী বণ্টনব্যবস্থায় ‘বঞ্চিত ও মুখাপেক্ষী’র অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসলাম স্পষ্টতা ও সরলতার চেতনায় উজ্জীবিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্য কথা বলো…।’
(সুরা : আহজাব, আয়াত : ৭০)
সত্য কথা সোজা করে বলা, সময়মতো বলা জরুরি। সত্যকে যারা আড়াল করে, প্রিয় নবী (সা.) তাদের ‘বোবা শয়তান’ (শয়তানুল আখরাস) বলেছেন।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদের শাহাদাতে রুখে দাঁড়ায় দেশবাসী। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা ক্যাম্পাস। তৈরি হলো জাগরণ। দল, মত, পেশা, পরিচয় ভুলে রাজপথে এককাতারে দাঁড়াল সবাই একই উচ্চারণে—
* বুকের ভেতর অনেক ঝড়/বুক পেতেছি গুলি কর
* আমার সোনার বাংলায়/বৈষম্যের ঠাঁই নাই
* জাস্টিস জাস্টিস/উই ওয়ান্ট জাস্টিস
* চেয়ে দেখ এই চোখের আগুন/এই ফাগুনেই হবে দ্বিগুণ
* আমরা আম-জনতা/কম বুঝি ক্ষমতা
* যে হাত গুলি করে/সেই হাত ভেঙে দাও
* আমার ভাই কবরে/খুনি কেন বাইরে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা, No release, No treatment…! তখন নিপীড়িত জনতা গুমরে কেঁদেছে। অথচ বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে প্রিয় নবী (সা.)-এর দর্শন : ‘সব সৃষ্টি আল্লাহর পরিজন। সব সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর কাছে প্রিয় সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর পরিজনের প্রতি সুন্দর আচরণ করে।’ (বায়হাকি) প্রিয় নবী (সা.) আরো বলেন, ‘কঠোর ও রুক্ষ স্বভাবের ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (আবু দাউদ)
এটাও স্মরণ রাখতে হবে যে, লুটপাট ও অনৈতিকতা ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী।
প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কারো এক বিঘত জমি জোরপূর্বক দখল করবে, কিয়ামতের দিন শাস্তিস্বরূপ সাত স্তবক জমি থেকে ওইটুকু জমি তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।’ (বুখারি)
তবে হ্যাঁ, যেকোনো মূল্যে দেশ ও সমাজের ঐক্য ধরে রাখতে হবে। ইসলাম মানবতা ও ঐক্যের শিক্ষা দেয়। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘এক মুসলমান অন্য মুসলমানের কাছে সুদৃঢ় প্রাসাদতুল্য, যার একাংশ অন্য অংশকে সুদৃঢ় করে।’ (মিশকাত)
মৈত্রীর পবিত্র বন্ধন সাম্য-শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দীপক। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘নিজ মুসলিম ভাইকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা ও ঘৃণা করা অন্যায়। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য তার রক্ত, সম্পদ ও সম্মান সবই পবিত্রতম।’ (মুসলিম) তিনিই (সা.) বলেন, ‘সৎকর্ম সামান্য হলেও তা পরিত্যাগ কোরো না, যদিও তা হয় তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা করা।’ (মিশকাত)
কখনো কখনো দেখা যায়, অন্যের বিপদে কেউবা আনন্দিত হয়। এটা ঠিক নয়। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের বিপদে তুমি আনন্দ প্রকাশ কোরো না।’ (তিরমিজি)
মানুষের স্থূল স্বার্থ তাকে অবিবেচক বানিয়ে ফেলে। পবিত্র কোরআনের চিরন্তন অভিব্যক্তি :
‘মনোরম করা আছে কামনা অপার
মানুষের কাছে যাহা অধিক চাওযার
সন্তান নারী আর সোনা ও রুপার
অশ্ব পশুরাজি ক্ষেত ও খামার।’
(কাব্যানুবাদ, সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৪)
সম্পদ বা স্বার্থসচেতনতা এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের প্রকাশ আমার, তোমার, তার কর্তৃত্ব ও মালিকানা। অথচ মহান আল্লাহ বলেন, ‘ইন্নাল আরদা লিল্লাহ…’ অর্থাৎ ‘নিশ্চয়ই ভূমি আল্লাহর, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকার দান করেন।’
(সুরা : আনআম, আয়াত : ১৩৭)
লেখক : সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ
কাপাসিয়া, গাজীপুর









