সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

১. ওয়াদি দাওকাহ : যে পাহাড়ি উপত্যকায় লোবান বৃক্ষ জন্মায়।
৩. আল বালিদ : প্রাচীন সমুদ্র বন্দর, যেখান থেকে লোবান রপ্তানি করা হতো।
৪. খোর ররি : প্রাচীন সমুদ্র বন্দর, যেখান থেকে লোবান রপ্তানি করা হতো।
ওমানের ধোফার অঞ্চলের জনমানবশূন্য শুষ্ক ভূমিতে বসওয়েলিয়া স্যাকরা নামক একটি বৃক্ষ জন্মায়। এই বৃক্ষের বাকল থেকে লোবানের রেজিন সংগ্রহ করা হয়। যা প্রক্রিয়াজতকরণের মাধ্যমে তা থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মানের লোবান উৎপন্ন করা হয়। লোবানের রং, ঘনত্ব ও তেলের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লোবানের মান ও মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ওমানে উৎপাদিত লোবানকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লোবান মনে করা হয়। সবচেয়ে ভালো মানের লোবানের নাম ‘হোজারি’। এই লোবানের রেজিন শুধু ধোফার পর্বত বেস্টিত অঞ্চলে উৎপাদিত হয়। এর উপাদান সংগ্রহ করা হয় গ্রীষ্ম মৌসুমের শেষ ও বর্ষা মৌসুম শুরুর মাঝামাঝি সময়ে।
ধোফারের যে অঞ্চলে লোবান বৃক্ষের সমাহার দেখা যায় তা খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকেই পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। এখান থেকে একাধিক বাণিজ্য পথ মরুভূমি ও সমুদ্রের বুক চিড়ে এগিয়ে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বণিকরা এসব পথ ধরে লোবান সংগ্রহ করতে আসতেন। আবার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লোবানসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে মিসর, ব্যাবিলন, গ্রিক ও রোমান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতেন। তাঁদের কেউ কেউ ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে সুদূর চীনেও উপস্থিত হতেন। লোবান, বাণিজ্যপথ ও বাণিজ্য এই অঞ্চল ঈর্ষণীয় আর্থিক সমৃদ্ধি দান করে।
আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায় বর্তমানে বহু উন্নত সুগন্ধির উদ্ভব ঘটেছে। তবু লোবানের চাহিদা আকাশ ছোঁয়া। উন্নত সুগন্ধি ও পারফিউম তৈরি করতেও লোবান ব্যবহার করা হয়। এক কেজি খাঁটি লোবানের মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই লাখ টাকা।
তথ্যঋণ : রোর মিডিয়া বাংলা, ইউনেসকো ডটঅর্গ ও নিউ আরব নিউজ









