ধর্ম

লোবানের ভূমিতে আপনাকে স্বাগত!

নিউজ ডেস্ক২৯ জুলাই ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ওমানের দক্ষিণে অবস্থিত ধোফারকে একটি ব্যতিক্রম অঞ্চলই বলা যায়। আরবের শুষ্ক ও রোদে পোড়া প্রকৃতির সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। গ্রীষ্মকালে যখন বর্ষার আগমন ঘটে, তখন পাহাড়গুলো কুয়াশায় ঢেকে যায় এবং ধোফারের ভূমি সবুজের স্বর্গে পরিণত হয়। শীতল আবহাওয়ার সঙ্গে কুয়াশার মিশ্রণ নৈস্বর্গিক পরিবেশ তৈরি করে।

এ সময় বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ধোফারে পর্যকটরা ছুটে আসে।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বাইরে ধোফারের আছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, উপজাতীয় ঐতিহ্য ও প্রাচীন বাণিজ্য পথ। হাজার হাজার বছর ধরে ওমান মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে লোবানের সুগন্ধি বিতরণ করে আসছে। ওমানের সবচেয়ে লোবান উৎপাদিত হয় ধোফারে।

লোবানের প্রাচীন বাণিজ্য পথ ছিল ধোফার। ধোফারের ওপর দিয়ে সমুদ্রপথে লোবান ছড়িয়ে পড়ত সারা বিশ্বে। ওমানে লোবানের যত প্রাচীন বাজার রয়েছে, ধোফারের সালালাহ শহর তার মধ্যে অন্যতম। ওমানের রাজধানী মাস্কটের ‘মুতরাহ সুউক’ লোবানের জন্য বিখ্যাত।
ওমানের লোবান ও মুতরাহ সুউকের কথা বাইবেলেও উল্লেখ আছে। যা লোবানের সমৃদ্ধ ইতিহাসেরই সাক্ষ্য বহন করে।২০০০ সালে ইউনেসকো ধোফারকে ‘লোবানের ভূমি’ আখ্যা দিয়ে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে। ইউনেসকো তার স্বীকৃতিতে লোবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত চারটি স্থানকে স্বীকৃতির অন্তর্ভুক্ত করেছে। তা হলো—

১. ওয়াদি দাওকাহ : যে পাহাড়ি উপত্যকায় লোবান বৃক্ষ জন্মায়।

২. শিসর নগরী : একটি প্রাচীন নগরী ও বাণিজ্য কেন্দ্র। প্রাচীনকালে যা লোবান বিক্রির প্রধান কেন্দ্র ছিল।

৩. আল বালিদ : প্রাচীন সমুদ্র বন্দর, যেখান থেকে লোবান রপ্তানি করা হতো।

৪. খোর ররি : প্রাচীন সমুদ্র বন্দর, যেখান থেকে লোবান রপ্তানি করা হতো।

ওমানের ধোফার অঞ্চলের জনমানবশূন্য শুষ্ক ভূমিতে বসওয়েলিয়া স্যাকরা নামক একটি বৃক্ষ জন্মায়। এই বৃক্ষের বাকল থেকে লোবানের রেজিন সংগ্রহ করা হয়। যা প্রক্রিয়াজতকরণের মাধ্যমে তা থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মানের লোবান উৎপন্ন করা হয়। লোবানের রং, ঘনত্ব ও তেলের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লোবানের মান ও মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ওমানে উৎপাদিত লোবানকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লোবান মনে করা হয়। সবচেয়ে ভালো মানের লোবানের নাম ‘হোজারি’। এই লোবানের রেজিন শুধু ধোফার পর্বত বেস্টিত অঞ্চলে উৎপাদিত হয়। এর উপাদান সংগ্রহ করা হয় গ্রীষ্ম মৌসুমের শেষ ও বর্ষা মৌসুম শুরুর মাঝামাঝি সময়ে।

ধোফারের যে অঞ্চলে লোবান বৃক্ষের সমাহার দেখা যায় তা খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকেই পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। এখান থেকে একাধিক বাণিজ্য পথ মরুভূমি ও সমুদ্রের বুক চিড়ে এগিয়ে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বণিকরা এসব পথ ধরে লোবান সংগ্রহ করতে আসতেন। আবার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লোবানসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে মিসর, ব্যাবিলন, গ্রিক ও রোমান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতেন। তাঁদের কেউ কেউ ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে সুদূর চীনেও উপস্থিত হতেন। লোবান, বাণিজ্যপথ ও বাণিজ্য এই অঞ্চল ঈর্ষণীয় আর্থিক সমৃদ্ধি দান করে।

আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায় বর্তমানে বহু উন্নত সুগন্ধির উদ্ভব ঘটেছে। তবু লোবানের চাহিদা আকাশ ছোঁয়া। উন্নত সুগন্ধি ও পারফিউম তৈরি করতেও লোবান ব্যবহার করা হয়। এক কেজি খাঁটি লোবানের মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই লাখ টাকা।

তথ্যঋণ : রোর মিডিয়া বাংলা, ইউনেসকো ডটঅর্গ ও নিউ আরব নিউজ