ধর্ম

চন্দ্র, সূর্য ও বিশ্ব-জাহানের কোনো কিছু্ই চিরস্থায়ী নয়

নিউজ ডেস্ক২৭ জুলাই ২০২৫৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজে ডেস্ক:

রআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা লোকমান : আয়াত ২৯-৩০ 

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ یُوۡلِجُ الَّیۡلَ فِی النَّهَارِ وَ یُوۡلِجُ النَّهَارَ فِی الَّیۡلِ وَ سَخَّرَ الشَّمۡسَ وَ الۡقَمَرَ ۫ كُلٌّ یَّجۡرِیۡۤ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی وَّ اَنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ﴿۲۹﴾

ذٰلِكَ بِاَنَّ اللّٰهَ هُوَ الۡحَقُّ وَ اَنَّ مَا یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِهِ الۡبَاطِلُ ۙ وَ اَنَّ اللّٰهَ هُوَ الۡعَلِیُّ الۡكَبِیۡرُ ﴿۳۰﴾

সরল অনুবাদ

(২৯) তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে প্রবেশ করান? তিনি চন্দ্রসূর্যকে নিয়মাধীন করেছেন, প্রত্যেকে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত আপন পথে আবর্তন করে; নিশ্চয় আল্লাহ তোমরা যা কর, সে সম্বন্ধে অবহিত।

(৩০) এগুলো প্রমাণ করে যে, আল্লাহই ধ্রুব সত্য এবং ওরা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে, তা মিথ্যা। আর নিশ্চয় আল্লাহ তিনিই সুউচ্চ, সুমহান।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

২৯ নং আয়াতে বলা হচ্ছে যে, রাতের কিছু অংশ নিয়ে দিনে ঢুকিয়ে দেন, যার ফলে দিন বড় ও রাত ছোট হয়; যেমন গ্রীষ্মকালে ঘটে থাকে এবং দিনের কিছু অংশ নিয়ে রাতে ঢুকিয়ে দেন, ফলে রাত বড় ও দিন ছোট হয় যেমন; শীতকালে ঘটে।

আয়াতে উল্লেখিত ‘নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত’ উদ্দেশ্য কিয়ামত পর্যন্ত। অর্থাৎ চন্দ্র ও সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার যে প্রাত্যহিক নিয়ম আল্লাহ তায়ালা নির্ধারিত করেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত অনুরূপই বিদ্যমান থাকবে। এর দ্বিতীয় অর্থ হল যে, ‘এক নির্দিষ্ট কক্ষ পর্যন্ত’ অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা উভয়ের চলাফেরার জন্য এক নির্দিষ্ট স্থান ও কক্ষপথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন যেখানে তাদের সফর শেষ হয় এবং দ্বিতীয় দিন পুনরায় সেখান থেকে আরম্ভ করে প্রথম স্থানে এসে যায়। একটি হাদিস দ্বারাও এই অর্থেরই সমর্থন হয়; একদা নবী (সা.) আবু যার্র (রা.)-কে বললেন, তুমি কি জানো এই সূর্য কোথায় অস্ত যায়? উত্তরে আবূ যার্র বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভাল জানেন।

’ তিনি বললেন, আল্লাহর আরশ হল তার শেষ স্থান। সেখানে যায় এবং আরশের নিচে সিজদা করে এবং নিজ প্রতিপালকের কাছে পুনরায় সেখান থেকে উদিত হওয়ার অনুমতি চায়। এমন সময় আসবে যখন তাকে বলা হবে, ‘তুমি যে দিক থেকে এসেছ ঐ দিকেই ফিরে যাও।’ তখন সে পূর্ব দিক থেকে উদিত না হয়ে পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে।
যেমন কিয়ামতের নিকটবর্তী নিদর্শনাবলীর ব্যাপারে বলা হয়েছে। (বুখারি, তাওহিদ অধ্যায়, মুসলিম, ঈমান অধ্যায়) ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘সূর্য চরকার মতো, দিনের বেলায় আকাশে আপন কক্ষপথে চলে, অতঃপর যখন অস্তমিত হয়, তখন রাতের বেলায় পৃথিবীর নিচে (অপর প্রান্তে) আপন কক্ষপথে চলতে থাকে এবং পুনরায় পূর্ব থেকে উদিত হয়। চাঁদের ব্যাপারও অনুরূপ।’ (ইবনে কাসীর) 

এই আয়াতের আরেকটি ঘোষনা এই যে, প্রত্যেকটি জিনিসের যে সময়-কাল নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে সেই সময় পর্যন্ত তা চলছে ও চলবে। চন্দ্র, সূর্য বা বিশ্ব-জাহানের অন্য গ্রহ-নক্ষত্র কোনটাই চিরন্তন ও চিরস্থায়ী নয়।

প্রত্যেকের একটি সূচনাকাল আছে। তার পূর্বে তার অস্তিত্ব ছিল না। আবার প্রত্যেকের আছে একটি সমাপ্তিকাল। তারপর আর তার অস্তিত্ব থাকবে না। এ আলোচনার উদ্দেশ্য হচ্ছে একথা বুঝিয়ে দেয়া যে, এ ধরনের ধ্বংসশীল ও ক্ষমতাহীন বস্তু ও সত্তাগুলো উপাস্য হতে পারে কেমন করে? (কুরতুবী) 

৩০ নং আয়াতে বলা হচ্ছে যে, এ সকল ব্যবস্থাপনা ও নিদর্শন আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পারো যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পরিচালক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। যার আদেশ ও ইচ্ছায় এ সব কিছু নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়ে থাকে এবং তিনি ছাড়া সব উপাস্যই বাতিল। কারণ সবই তাঁর সৃষ্টি ও সবাই তাঁর অধীনস্থ। তাদের মধ্যে কেউ অণু পরিমাণও কিছু নড়াবার ক্ষমতা রাখে না। না তাঁর তুলনায় বড় মর্যাদাবান কেউ আছে এবং না তাঁর মত মহান কেউ আছে। বরং তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও মহত্ত্বের সামনে সব কিছু তুচ্ছ ও হীন।

উৎস : তাফসিরে আহসানুল বায়ান থেকে ইষৎ সম্পাদিত।