নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি কর্পোরেশন-২ শাখা) থেকে গত ২৭ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের (সিটি কর্পোরেশন-২ শাখা) এর উপসচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়।
তবে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ওই আদেশটি রাসিকে এসে পৌঁছেনি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রোববার নাগাদ এটি ডাকযোগে এসে পৌছাতে পারে। আর সেদিনই ক্ষমতা ফিরে পেতেন বুলবুল-এমনটি নিশ্চিত করেছে রাসিকের একাধিক সূত্র।

এতে বলা হয়েছে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল কর্তৃক হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত ৫৫১২/২০১৫ নং রীট পিটিশনের প্রেক্ষিতে আদালত হতে প্রদত্ত আদেশ এবং আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে দায়েরকৃত লিভ টু আপিল মামলা নং-৩৬১৮/২০১৬ এবং ৩৬০৪/২০১৬ এর প্রেক্ষিতে গত ৫ মার্চ ২০১৭ আপিল বিভাগ প্রদত্ত নির্দেশনা (ছায়ালিপি সংযুক্ত) সঠিকভাবে পালনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ওই স্মারকটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব প্রাপ্ত মেয়র, নির্বাহী কর্মকর্তা রাসিককে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ কালাম বিপ্লব বলেন, গত ২৭ তারিখে আদেশটি স্বাক্ষর হয়েছে। আজকের মধ্যে রাসিকে পৌঁছে যাওয়ার কথা আর যদি না পৌঁছে তাহলে রোববার পৌঁছাবে। সেদিন দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনে যাওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির পরে নাশকতার অভিযোগে মেয়র বুলবুলের বিরুদ্ধে মোট ১৯টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ওই বছরের ৭ মে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন- ২০০৯ এর ১২ (১) ধারামতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অভিযোগ রয়েছে বিধিমোতাবেক প্যানেল মেয়রদের ক্রমানুসারে প্রথমজনকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব প্রদান না করে মন্ত্রণালয় ওই বছরের ৩১ জুন পৃথক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে রাসিকের ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযাম উল আযীমকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেন।
জানা গেছে, মেয়র বুলবুল কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তার বরখাস্ত আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। একই সঙ্গে ২০১৫ সালেল বছরের ৫ জুলাই মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খোকা, বুলবুলকে বরখাস্ত করা ও নিযামকে দায়িত্ব প্রদানে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রজ্ঞাপন জারিকে অবৈধ ও আইন পরিপন্থী দাবি করে পৃথক একটি রিট হাইকোর্টে দাখিল করেন।
তবে বুলবুলের করা রিটে হাইকোর্ট বেঞ্চ নিযামকে রাসিক মেয়রের দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন। একই বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে নিযাম উল আযীমের পক্ষে সরকার চেম্বার জজ আদালতে আপিল করেন। চেম্বার জজ হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আপিল বিভাগে যায়। ২০১৬ সালেল ১০ মার্চ আপিল বিভাগ বুলবুলকে বরখাস্ত করা ও নিযামকে মেয়রের দায়িত্ব প্রদান করে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখেন। গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পুর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় মন্ত্রণালয় সম্প্রতি মিস পিটিশান দাখিল করেন। কিন্তু আদালত আপিল বিভাগের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ না দিয়ে আগের রায়ই বহাল রাখেন। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ রায়ের বিরুদ্ধে একটি সিপি বা সিভিল পিটিশান ফর লিভ টু আপিল দাখিল করেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি চলছিল। গত ৫ মার্চ বুলবুলকে বৈধ মেয়র বলে আপিল বিভাগ রায় প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ১৫ জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এক লাখ ৩১ হাজার ৫৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। শপথ নেওয়ার পর মাত্র ১৪ মাস দায়িত্বে ছিলেন বুলবুল। সরকার বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের দায়ের করা পুলিশ হত্যা, বিস্ফোরক ও নাশকতার অন্তত ১৯টি মামলার রয়েছে। তবে এসব মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছাড়াও রাজশাহী নগর বিএনপির সভাপতি হয়েছেন।
স/আর









