সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
প্রাচীনকালে বছর গণনার রীতি

প্রাচীনকালে সাল বা বর্ষ গণনার ভিত্তি ছিল বড় বড় ঘটনা।
প্রাচীনকালে আরবদের বছর গণনা
আরবরা সর্বপ্রথম সন গণনা শুরু করেছিল ইবরাহিম ও ইসমাঈল (আ.) কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণের সময়কে কেন্দ্র করে। এরপর আরবদের একটি দল তিহামার দিকে স্থানান্তরিত হয়। তখন থেকে বিচ্ছিন্নতার সময় কেন্দ্র করে তাদের সন গণনা শুরু হয়।
নবীজি (সা.)-এর যুগে সাল গণনা
মহানবী (সা.) মদিনায় গমন করার পর মুসলমানরা সেটাকে কেন্দ্র করেই বছর গণনা শুরু করেছিল। এমনকি তারা মদিনায় কাটানো নবীজি (সা.)-এর ১০ বছরকে পৃথক ১০টি নামও দিয়েছিল। যেমন—প্রথম বছরের নাম ছিল হিজরতের বছর, দ্বিতীয় বছরের নাম ছিল যুদ্ধের নির্দেশ পাওয়ার বছর, তৃতীয় বছরের নাম ছিল পরীক্ষার বছর, চতুর্থ বছরের নাম ছিল অগ্রগতির বছর, পঞ্চম বছরের নাম ছিল ভূমিকম্পের বছর, ষষ্ঠ বছরের নাম ছিল সহমর্মিতার বছর, সপ্তম বছরের নাম ছিল বিজয় লাভের বছর, অষ্টম বছরের নাম ছিল সমতা লাভের বছর, নবম বছরের নাম ছিল দায়মুক্তির বছর, দশম বছরের নাম ছিল বিদায় হজের বছর। হিজরতের ১১তম বছরের দুই মাস ১২ দিন পর মহানবী (সা.) ইন্তেকাল করেন।
(আল বাদয়ু ওয়াত তারিখ : ৪/১৮০)
হিজরি সনের প্রবর্তন যেভাবে
মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর ইসলামী খেলাফতের বিস্তৃতি ঘটতে থাকে। তখন গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও নথিপত্রের তারিখ সংরক্ষণের প্রয়োজন দেখা দেয়, বিচারিক কর্মকাণ্ডেও তারিখ নির্ধারণ আবশ্যক হয়ে পড়ে। যেমন—তারিখ নির্ধারণ ছাড়া ঋণবিষয়ক অভিযোগের বিচার করা সম্ভব ছিল না। ফলে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ইসলামী বর্ষপঞ্জি প্রণয়নের গুরুত্ব অনুভব করেন। এ ক্ষেত্রে আবু মুসা আশআরি (রা.)-সহ অন্য প্রশাসকদের পক্ষ থেকে তাগাদাও ছিল। ফলে উমর (রা.) সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর সঙ্গে বর্ষপঞ্জি প্রবর্তনের ব্যাপারে পরামর্শ করেন।
ইসলামী বর্ষপঞ্জি কিসের ভিত্তিতে রচিত হবে তা নিয়ে সাহাবিদের মধ্য থেকে একাধিক মতামত এসেছিল। যেমন—পারস্যের বর্ষপঞ্জির অনুসরণ করা, রোমান বর্ষপঞ্জির অনুসরণ করা, নবীজি (সা.)-এর জন্মের সময়কে কেন্দ্র করে নতুন বর্ষপঞ্জি নির্ধারণ করা, নবীজি (সা.)-এর নবুয়ত লাভ থেকে শুরু করা, তাঁর মৃত্যু থেকে শুরু করা, তাঁর মদিনায় হিজরত থেকে শুরু করা ইত্যাদি। এর মধ্যে উমর (রা.) হিজরতের সময়কে বেছে নিলেন। কেননা হিজরতকে কেন্দ্র করে সময় গণনার চর্চা পূর্ব থেকেই কিছুটা ছিল। অতঃপর এটাই মুসলিম বিশ্বের সময় গণনার মানদণ্ডে পরিণত হয়, যা আজও অব্যাহত আছে। (আল বিদায়া ওয়ান
নিহায়া : ৩/২৫১; তারিখুত তাবারি : ২/৩০)
আল্লাহ সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।









