রাজশাহী

গোদাগাড়ীতে এলজিইডির কাজে অনিয়ম: মব সৃষ্টি করে ইউপি চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক১৯ জুন ২০২৫৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক চেয়ারম্যানকে পদত্যাগে বাধ্য করানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় যুবদলের এক নেতার নেতৃত্বে গতকাল বুধবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার বাসুদেবপুর ইউপির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে।

এই ইউনিয়নের স্লুইসগেট থেকে বাসুদেবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি রাস্তায় সিমেন্টের ঢালাই কাজের অনিয়মের সঙ্গে চেয়ারম্যান জড়িত অভিযোগ তুলে তাঁকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। যদিও রাস্তার ৫০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজটি করছে এলজিইডি।

জানা গেছে, কাজটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কিনে নিয়ে করছেন হেনা, সেলিম ও সিজান নামের তিন ব্যক্তি। এই কাজে সিমেন্টের অনুপাত কম দেওয়া এবং শিডিউল অনুযায়ী পূরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা যুবদলের সদস্য মাহফুজুর রহমান ডালিমের নেতৃত্বে স্থানীয় দুলাল, তুহিন, মাফি ও নাজমুলসহ ৫০ থেকে ৬০ জন স্থানীয় ব্যক্তি এসব অভিযোগ তুলে প্রতিকারের জন্য ইউপি কার্যালয়ে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের কাছে যান। এসময় চেয়ারম্যান জানান, রাস্তাটির কাজ তো করছে এলজিইডির। এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কিছু করার নেই। এ সময় কেউ কেউ বলে ওঠেন, চেয়ারম্যান এই কাজ থেকে টাকা খেয়েছেন। এ সময় স্থানীয়রা চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশ স্থানীয়দের সরাতে পারেনি।

পরে অনিয়ম-দুর্নীতির দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে চাপ দেওয়া হয় চেয়ারম্যানকে। এ সময় লিখে আনা একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে। পদত্যাগপত্রে লেখা হয়েছে, ‘আমি আমার দুর্নীতির কারণে এবং দুর্নীতি জনগণের কাছে প্রমাণিত হওয়ায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি।’ এই পদত্যাগপত্র নিয়ে স্থানীয়রা ইউপি কার্যালয়ে তালা দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দিতে যান।

তবে জেলা যুবদলের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান ডালিম বলোন, রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করিয়েছেন। এখানে আমার কোন হাত নাই। ‘

বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ইউপি কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এভাবে তো জোর করে পদত্যাগ হয় না। আমি স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হয়েছি। পদত্যাগ করিনি।’ তিনি বলেন, ‘এখানে রাস্তা-টাস্তা কিছু না। এলাকার একটা পক্ষ আমাকে সরাতে চাইছে। তা না হলে কাজ এলজিইডির, আর আমাকে চাপ দেওয়া হয়?’

কাজে অনিয়ম হচ্ছে না দাবি করে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুর রহমান বলেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। স্থানীয় লোকজন বিষয়টা বুঝেছে। তারা ইউএনও অফিসে এসেছিল। তারা লিখিত দিতে চেয়েছে যে, কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না এটা তারা বুঝেছে। তাদের সমস্যা চেয়ারম্যানের সঙ্গে। এ জন্যই তাকে পদত্যাগে চাপ দেয়া হয়।’

এ বিষয়ে ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আমি ফরমালি এই পদত্যাগপত্র পাইনি। যতক্ষণ না পাচ্ছি, ততক্ষণ তিনিই চেয়ারম্যান। তবে স্থানীয় লোকজন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। আমি লিখিত অভিযোগ দিতে চেয়েছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ-পদবী না থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে পরিচিত। তবে আওয়ামী লীগের আমলে এলাকার সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে বিরোধ ছিল তার। ‘কথা না শোনার কারণে’ সুযোগ পেলেই ফারুক চৌধুরী তাকে অপমান করতেন।