রাজশাহী

চাকরি দেওয়ার নামে ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নিউজ ডেস্ক২ জুন ২০২৫৩ মিনিট পড়া

বাঘা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাঘায় চাকরি দেওয়ার নামে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগীরা।

সোমবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করা হয়। এতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৯ জনের কাছ থেকে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষের নাম মোজাম্মেল হক। তিনি তেঁথুলিয়া-পীরগাছা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট কলেজ ও ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটে অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মানববন্ধনে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সহকারি অধ্যাপক (অবঃ) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক একজন দুর্নীতিবাজ শিক্ষক। তিনি অনেককেই চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন।

পরে চাকরি দিতে ব্যর্থ হলেও ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেননি তিনি। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি দাবি করেন, যারা চাকরির জন্য টাকা দিয়েছেন তাদের চাকরির ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় অধ্যক্ষকে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দিতে হবে।
আড়পাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী একলাসুর রহমান জানান, অফিস সহকারী পদে চাকরির জন্য অভিযুক্ত অধ্যক্ষের সাথে ১০ লাখ টাকার চুক্তি হয় তার। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর সেই অধ্যক্ষকে ২ লাখ টাকা দেন তিনি।

অপর ভুক্তভোগী তেথুলিয়া শিকদার পাড়া গ্রামের মোরশেদ আলম জানান, গ্রন্থাগারিক পদের জন্য ২০০৯ সালে দেড় লাখ টাকা অধ্যক্ষকে দেন তিনি। পরে ২০১০ সালে তাকে নিয়োগ দেওয়া হলেও সেই নিয়োগ ছিল ভুয়া। পরে টাকা ফেরত চেয়েও পাননি তিনি।

এ ছাড়া আড়পাড়া গ্রামের আবুল বাছেদ বাচ্চুকে নৈশ প্রহরী পদে চাকরি দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষের সাথে ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়। ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর তিনিও ৩ লাখ টাকা দেন জমা দেন। একই গ্রামের নাইম উদ্দীনের সাথে ল্যাব এ্যাসিসটেন্ট পদে চাকরির জন্য ৮ লাখ টাকার চুক্তি হয় অধ্যক্ষের। ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর তিনিও অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে ৩ লাখ টাকা দেন।

তবে চাকরি দিতে ব্যর্থ হলে অধ্যক্ষের কাছে টাকা ফেরত চান ভুক্তভোগীরা। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে সুকৌশলে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ভুক্তভোগীদের অস্ত্রের ভয় তিনি। বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয় না নেওয়ার জন্য অধ্যক্ষের ভাতিজা ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হক ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করাসহ প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখান।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে রাজশাহী আদালতে মামলা হলেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিজের পক্ষে করে নেওয়ার অভিযোগ উঠে অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। পরে ৪ জনের বিরুদ্ধে ১০৭ ধারায় আদালতে উল্টো মামলা করেন তিনি।

তবে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক। তার দাবি, তাদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দিয়েছেন তিনি।

চাকরি দেওয়ার নামে অধ্যক্ষের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৯ জনের কাছ থেকে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।