রাজশাহী

তানোরে দেশের প্রথম জলাভূমি-নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য বিলজোয়ানার প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষার দাবি

নিউজ ডেস্ক২১ মে ২০২৫২ মিনিট পড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিলজোয়ানাকে জলাভূমি-নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্যের প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির মধ্যে। বিল ভরাট দখল দূষণে জীববৈচিত্র্য সংকটের মধ্যে আছে। দ্রæত বিলসহ শিবনদ খনন এবং এর জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানান স্থানীয় জনগোষ্ঠী।
আজ ( বুধবার) ২১ মে ২০২৫, আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষ্যে “খরা, জল-জীবন ও প্রাণবৈচিত্র্য: আমাদের বিলাঞ্চলের টেকসই ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিয়ে বিলজোয়ানা-বিলকুমারী প্রাণবৈচিত্র্য উৎসব ২০২৫ অনুষ্টিত হয়। রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিলকুমারি পাড়ের গোকুল-মথুরা গ্রামে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও সবুজ সংহতি এটি আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের অংশগ্রহন করেন গোকুল-মোথুরা গ্রামের কৃষক-জেলে,নারী,প্রবীন ও নতুন প্রজন্মের শিক্ষাথীসহ নদী ও পরিবেশ গবেষক এবং সবুজ সংহতি’র আহবায়ক মাহবুব সিদ্দিকী, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির, সাবেক সার্জেন্ট আলাল, কৃষক জিতেন্দ্রনাথ, আলহাজ¦ রফিকুল ইসলাম, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফেরাামের সভাপতি শাইখ তাসনীম জামাল, সাদারণ সম্পাদক সাবিত্রী হে¤্রম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, স্বপ্নচারী যুব সংগঠনের মো: রুবেল হোসেন বক্তব্য ও নিজেদের দাবি তুলে ধরেন।
বিলজোয়ানা বিষয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তুলে ধরতে দিনব্যাপী চিত্রাংকন প্রতিয়োগীতা, বিল নদীর গান, বিলের বৈচিত্র্য প্রদর্শনী করা হয়। আলোচনায় বক্তরা বিলজোয়ানা-বিলকুমারির প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবার দাবি জানান।
নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বিলজোয়ানা সুরক্ষায় কিছু দাবি তুলে ধরেন- শিব নদের বাধ অপসারন করে পানির প্রবাহ নিশ্চি করতে হবে , বিল দখল মুক্ত করা ও বিলের জমি নির্ধারন করে সীমানা পিলার দেওয়া, শিব নদ ও বিলজোয়না-বিলকুমারী খনন করে সারা বছর পানি সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করতে হবে, বিলের প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষন করতে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করা,  বিলে মাছের প্রজননের সময় যখন মাছ ধরা বন্ধ থাকবে তখন বিল নির্ভর জনগোষ্টির জন্য সরকারী বরাদ্দ চালু করতে হবে।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির – প্রাণ সংরক্ষন করেই আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। প্রাণ বৈচিত্র্য সংরক্ষন হলেই আমাদের প্রকৃতি সুরক্ষা হবে এ বিষয়ে জনগোষ্টিকে সচেতনতায় তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানের মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ শহিদুল ইসলাম, তিনি বলেন- বিলজোয়ানাসহ এর আশাপাশে একাসাথে বিলকুমারি মিলে কয়েকটি বিলের মোট আয়তন প্রায় ৩৮৭ একর, এর ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে শিবনদ, বিলটির প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষা না করলে সবকিছু শুধু ঘোষণার মধ্যেই থেকে যাবে।