রাজশাহী

বাগমারায় গ্রাম্য শালিসে ধর্ষণ চেষ্টার বিচার ২০ হাজার টাকা ভাগ-বাটোয়ার

নিউজ ডেস্ক৩ এপ্রিল ২০২৫৩ মিনিট পড়া

বাগমারা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাগমারায় এক গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এর বিচারে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রাম্য শালিস বসিয়ে জরিমানা আদায় করে তা ভাগবাটোয়ারা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে শালিস বৈঠকটি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৩১ মার্চ) রাতে উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চেউখালী গ্রামের এক গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মোজাহার আলী নামের এক ব্যক্তি। এই ঘটনায় পরের দিন ঈদের দিন গৃহবধূর স্বামী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করেন। ঈদের ছুটি থাকার কারণে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি চেয়ারম্যান। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দেন চেয়ারম্যান।

এদিকে, গত মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিয়ে গ্রামে শালিস বসানো হয়। ওই শালিসে ইউপি সদস্য আমানুল্লাহসহ গ্রামের মাতব্বররা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে শমসের আলী, আবু সাঈদ, আলা হোসেন ও আবেদ আলী নেতৃত্ব দেন। শালিসে মাতব্বরদের জেরার মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ শিকার করেন। পরে অভিযুক্তের কাছ থেকে অপরাধের জন্য ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়াও ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধে জড়াবেন না বলে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। পুনরায় এই ধরনের অপরাধে জড়ালে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হবে বলে লিখিত মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়।

 শালিসের বিষয়ে ইউপি সদস্য আমান উল্লাহ খামারু বলেন, বিষয়টির সুরাহা করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে আর কথা বলেননি। কয়েক বার ফোন দিলেও সাড়া দেননি।

শমসের আলী নামের এক মাতব্বর বলেন, ‘বিষয়টি শালিসের সমাধান করা হয়েছে। বিচার করলে অনেক কিছু করতে হয়। সব দিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিযোগকারীকে ১৫ হাজার টাকা, স্থানীয় মসজিদে দুই হাজার টাকা এবং তিন হাজার টাকার মিষ্টি কিনে শালিসে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

শালিসে নেতৃত্ব দেওয়া আরেক মাতব্বর আলা হোসেন মুঠোফোনে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তবে ধর্ষণ বা খারাপ কিছু করেনি বলে জানিয়েছে। ওই দিন কী হয়েছে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ কিছু জানে না। ওই ব্যক্তির নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, পরিবারের পক্ষেও এমনটিও চাওয়া হয়েছিল। উভয় পরিবারের দিক বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষ খুশি। তবে অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বকুল সরদার জানান, তিনি ঈদের দিন লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ওই সময় সব ছুটি থাকায় নোটিশ করতে পারেননি। বিষয়টি দেখার জন্য ইউপি সদস্যের মাধ্যমে স্থানীয় লোকজনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগে কী লেখা ছিল, তা তিনি পড়েননি। কী হয়েছে তাও তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন।

বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের চেষ্টা হয়ে থাকলে তা গ্রাম্য সালিসে আপোষ করার কোনো সুযোগ নেই। যদি থানায় জানানো হয়, তাহলে মামলা গ্রহণ করা হবে।

স.আর