আন্তর্জাতিক

জুলফিকার আলী ভুট্টোকে মরণোত্তর ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ সম্মাননা প্রদান

নিউজ ডেস্ক২৪ মার্চ ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ইসলামাবাদের প্রেসিডেন্ট হাউসে ২৩ মার্চ ৮৫তম পাকিস্তান দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশটির বিশিষ্ট নাগরিকদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই অনুষ্ঠানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ মরণোত্তর প্রদান করা হয়।

রোববার (২৩ মার্চ) রোববার এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে আরওয়াই নিউজ।

রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এই সম্মাননা ভুট্টোর কন্যা সানাম ভুট্টোর হাতে তুলে দেন। এ সময় ভুট্টোর নাতি বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি, নাতনি আসিফা ভুট্টো, সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর পাকিস্তানের সংকটময় সময়ে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে ১৯৭৭ সালের জুলাই মাসে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল একটি বিতর্কিত হত্যা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি তার প্রথম মেয়াদে ভুট্টোর মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি রেফারেন্স পাঠান। দীর্ঘদিন পর মামলাটি আদালতে তোলা হলে, সাবেক প্রধান বিচারপতি কাজী ফায়েজ ঈসার নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ গত বছরের জুলাই মাসে রায় দেয় যে, জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ন্যায়বিচারের সুযোগ না দিয়েই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

এদিকে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিশান-ই-পাকিস্তান সম্মাননা প্রদান পিপিপির জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।  বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ইতোমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছেন, এবং তার দাদা জুলফিকার আলী ভুট্টোর উত্তরাধিকারকে সামনে এনে দলকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ভুট্টোর প্রতি এই স্বীকৃতি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক ও বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, এই পদক্ষেপকে একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

 

সূত্র: যুগান্তর