বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের নদীর পানি
নিউজ ডেস্ক৪ আগস্ট ২০১৬২ মিনিট পড়া
সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
উত্তরাঞ্চল থেকে উজানের পানি নামতে শুরু করায় দক্ষিনাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।
এরই মধ্যে পানির স্রোতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোত ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার রাতে কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ও হিজলার আবুপুর এলাকায় বিপৎসীমার ছয় সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
পানি স্রোতে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় বুধবার এক দিনেই কীর্তনখোলার তীরবর্তী নগরসংলগ্ন চরবাড়িয়া ইউনিয়নের চরআবদানী গ্রামের ফসলি জমি, বসতঘরসহ প্রায় তিন একর জমি বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে নাজিরবাড়ি স্কুল, কবরস্থান, পাকারাস্তা, বসতঘরসহ বহু স্থাপনা।
মহাবাজ গ্রামটি রয়েছে হুমকির মুখে। বৃহস্পতিবার দেখা গেছে মঙ্গলবার রাত থেকে নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ১০/১২ জনের বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের তীব্রতায় চরআবদানী গ্রামের বাসিন্দারা গাছ-পালা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক বসতঘর।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নদী ইতিমধ্যেই তিন একর ফসলি জমিও গ্রাস করে নিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করেই উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি নামতে শুরু করায় কীর্তনখোলায় পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে পানির স্রোত। সেই তীব্র স্রোতেই ভাঙতে শুরু করে নদীতীরের জমি।
কীর্তনখোলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পার্শ্ববর্তী দুই তীরের জনপদ প্লাবিত হয়ে পড়েছে। কীর্তনখোলা নদীর মতোই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে মেঘনা, কালাবদর, তেতুলিয়া ও আড়িয়াল খাঁ নদীর। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, প্রতিটি নদীর পানি ২০ সেন্টি মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার জানান, গত বেশ কয়েক দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে এ অঞ্চলে। সারা দেশের মতো বন্যার পূর্বাভাস বরিশালেও রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্র বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টির সাথে উজানের পানি নামতে শুরু করায় নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কীর্তনখোলায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর জিয়ানগর, রুপাতলী, পলাশপুর, চাদমারি, কাশিপুর, রায়পাশা-কড়াপুর, পলাশপুর, মোহম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা বুধবার রাতে প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে এ সব এলাকার রাস্তা-ঘাটসহ বাড়ির উঠান।